মঙ্গলবার রাতটা হঠাৎই আতঙ্কের হয়ে ওঠে কলকাতার মানুষের কাছে। রাত সাড়ে নটার একটু আগে আচমকাই কেঁপে ওঠে শহর। প্রথমে অনেকেই বুঝে উঠতে পারেননি কী হচ্ছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই স্পষ্ট হয়—মাটি কাঁপছে। কেউ খাট থেকে লাফিয়ে ওঠেন, কেউ আবার চেয়ার-টেবিল নড়তে দেখে ভয় পান। প্রায় ১৫ সেকেন্ড ধরে এই কম্পন অনুভূত হয় শহরের একাধিক এলাকায়।
ভয় পেয়ে বহু মানুষ বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন। রাস্তায় দাঁড়িয়ে একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন—ভূমিকম্প নাকি? যারা বাইরে ছিলেন, তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে ফোন করেন বাড়ির লোকজনকে। অনেক এলাকায় তখনই ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার বেড়ে যায়, কোথাও কোথাও পরিষেবা কিছুক্ষণের জন্য ধীর হয়ে পড়ে।
পরে জানা যায়, এই কম্পনের উৎসস্থল ছিল মায়ানমার। সেখানে রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬.৪, যা বেশ শক্তিশালী। মাটির প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল কম্পনের কেন্দ্র। দূরে হলেও এই তীব্রতার জন্য তার প্রভাব এসে পড়ে কলকাতা ও আশপাশের অঞ্চলে। শুধু কলকাতা নয়, ঢাকা এবং বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই অঞ্চলের আশপাশে একাধিক ছোট-বড় ভূমিকম্প হয়েছে। ভোরে বাংলাদেশে এবং সকালে তিব্বতে কম্পন হলেও সেগুলির প্রভাব কলকাতায় পড়েনি। কিন্তু রাতে মায়ানমারের ভূমিকম্প শহরবাসীর মনে পুরনো আতঙ্ক ফিরিয়ে আনে।
এর আগেও কলকাতা ভূমিকম্প অনুভব করেছে। গত বছর নভেম্বর মাসে সকালে দীর্ঘ সময় ধরে কম্পন হয়েছিল শহরে। সেই স্মৃতি এখনও অনেকের মনে তাজা। এবারের কম্পনের মাত্রা বেশি হলেও, এখনও পর্যন্ত কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গে বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই।


