নির্বাচনী মঞ্চে তিনি বরাবরই দৃঢ়, আত্মবিশ্বাসী। উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরা আর বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ—এই চেনা ছকেই অভ্যস্ত মানুষ। কিন্তু শনিবার মালদহের মালতিপুরের জনসভায় দেখা গেল এক অন্য ছবি—এক আবেগপ্রবণ, কষ্টে ভেঙে পড়া নেত্রীকে।
রতুয়া, মালতিপুর ও হরিশ্চন্দ্রপুরের প্রার্থীদের হয়ে ভোট চাইতে গিয়ে যেন নিজের মনের কথা চেপে রাখতে পারলেন না তিনি। গলা ভারী হয়ে এল, চোখেমুখে ফুটে উঠল অভিমান। মঞ্চের সামনে দাঁড়ানো মানুষদের উদ্দেশে কাঁপা গলায় বললেন, “যদি অন্য কাউকে ভোট দেন, আমি কিন্তু আর আপনাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখব না… আমি খুব সেন্টিমেন্টাল… এত কিছু দেওয়ার পরও যখন কেউ বেইমানি করে, তখন খুব কষ্ট হয়।”
এই কথার মধ্যেই স্পষ্ট ছিল গভীর আঘাত আর ব্যক্তিগত অভিমান। তবে ক্ষোভের মাঝেও দায়িত্ববোধের জায়গা ছাড়েননি। সঙ্গে সঙ্গেই যোগ করেন, “তাই বলে আপনাদের উন্নয়ন বন্ধ করব না… কিন্তু আমার খুব দুঃখ লাগবে… আমি অসম্মানিত বোধ করব।”
মুহূর্তের জন্য জনসভা যেন নিস্তব্ধ হয়ে যায়। রাজনৈতিক ভাষণের গণ্ডি ছাড়িয়ে সেই আবেগ সরাসরি পৌঁছে যায় মানুষের মনে। ভোটের আগে এই ব্যক্তিগত আবেদন, এই অভিমানের সুর—নিঃসন্দেহে নির্বাচনী আবহে এক আলাদা মাত্রা যোগ করল।


