এসআইআরের শেষ ধাপে রাজ্যে কীভাবে কাজ হচ্ছে, তা সরাসরি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার সন্ধ্যায় বিএলএ-টু এবং ভবানীপুরের কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে শুধু এসআইআর নয়, আসন্ন নির্বাচন নিয়েও দলকে সতর্ক ও সক্রিয় থাকার বার্তা দেন তিনি।
বৈঠকে বিএলএ-টুদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাঁদের লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে শুনানিতে ডাকা হয়েছে এবং যাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে—এই দুই ক্ষেত্রের সম্পূর্ণ তথ্য তিনি নিজে দেখতে চান। কারও নাম যেন অযথা বাদ না যায়, সেই বিষয়ে নজর রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
মাইক্রো অবজার্ভার নিয়েও বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনে এমন কোনও পদ নেই। এই ব্যবস্থা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে বলেই মন্তব্য করেন তিনি। তাই এই বিষয়ে অযথা চাপ নেওয়ার দরকার নেই বলেও দলকে বার্তা দেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
এসআইআর মামলায় আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে শুনানি রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১ ফেব্রুয়ারি দিল্লি যাওয়ার পর অনুমতি পেলে তিনি ওই দিন আদালতে উপস্থিত থাকবেন। তিনি বলেন, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই তিনি শুনানিতে থাকতে চান। আগে তিনি জানিয়েছিলেন, প্রয়োজন হলে রাজ্যবাসীর পক্ষে আইনগত লড়াইয়েও নামতে পারেন। তবে ঠিক কোন ভূমিকায় তিনি থাকবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বৈঠকে ওয়ার্ডভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টনেও বিশেষ জোর দেন মমতা। ৬৩ ও ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে সংগঠন আরও মজবুত করতে দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে অতিরিক্তভাবে ৭৪ ও ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড দেখভালের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিজের ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব দিয়েছেন ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর অসীম বসুকেও নিজের এলাকায় আরও সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তৃণমূল নেত্রীর বার্তা ছিল স্পষ্ট। তিনি বলেন, এবারের লড়াই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের কাছে পৌঁছনো, নিয়মিত স্ক্রুটিনি এবং আরও বেশি করে মাঠে নামাই আগামী দিনের প্রধান লক্ষ্য। দলকে দিনরাত পরিশ্রমের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন তিনি।


