সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন সরাসরি এসআইআর ঘিরে রাজ্যের ‘যন্ত্রণা’র কথা তুলে ধরছেন, ঠিক তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নবান্নে পৌঁছে গেল নির্বাচন কমিশনের কড়া বার্তা। রাজ্যের মুখ্যসচিবকে পাঠানো চিঠিতে কমিশনের স্পষ্ট অভিযোগ— একাধিক নির্দেশ এখনও কার্যকর করেনি রাজ্য প্রশাসন।
চিঠিতে নির্বাচন কমিশন জানায়, তাদের নির্দেশ সত্ত্বেও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দু’জন ইআরও, দু’জন এইআরও এবং এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না করার বিষয়টি নিয়েই প্রথম আপত্তি। পাশাপাশি, এইআরও সুমিত্র প্রতীম প্রধান ও বসিরহাটের বিডিও-র বিরুদ্ধে বেআইনি নিয়োগের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এখনও তাঁদের সাসপেন্ড না করায় প্রশ্ন তুলেছে কমিশন।
এতেই শেষ নয়। তিনজন ইআরও-র বদলির সিদ্ধান্ত বাতিল না করা, কমিশনের নিয়ম অমান্য করে এসডিও ও এসডিএম স্তরের আধিকারিকদের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার হিসেবে নিয়োগ এবং রিটার্নিং অফিসার নিয়োগে নির্দেশিকা না মানার অভিযোগও তোলা হয়েছে চিঠিতে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ— আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর তিনটের মধ্যে সমস্ত অভিযোগের বিস্তারিত রিপোর্ট চিঠির মাধ্যমে জমা দিতে হবে মুখ্যসচিবকে। সময়সীমা পেরোলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত স্পষ্ট।
উল্লেখযোগ্যভাবে, বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আর কয়েক মাস বাকি। তার আগেই এসআইআর ইস্যুতে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই শুনানিতেই কমিশনকে ‘মানবিক’ হওয়ার বার্তা দেয় শীর্ষ আদালত।
এই আবহে কমিশনের কড়া চিঠি যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য।


