এসআইআর পর্বে একের পর এক মৃত্যু, নাম বাদ পড়া আর সাধারণ মানুষের হয়রানি—এই সব অভিযোগে শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠি, বৈঠক, দিল্লি সফর—সবই হয়েছিল। কিন্তু এ বার তিনি যে নিজেই সশরীরে সুপ্রিম কোর্টে হাজির হয়ে সওয়াল করবেন, তা বিরোধীরা কল্পনাও করেনি।
বুধবার শীর্ষ আদালতে শুধু উপস্থিত থাকাই নয়, নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীর যুক্তির পালটা যুক্তিও দেন মমতা। এসআইআর সংক্রান্ত নিজের মামলায় নাম বাদ যাওয়ার যে সমস্যাগুলি তিনি তুলে ধরেন, তাতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিশেষ করে স্থানীয় ভাষা ও এআই ব্যবহারে সমস্যার বিষয়টি আদালতের নজরে আনার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই সমস্যার সমাধানে পথ খোঁজা হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মুহূর্তটি মমতার রাজনৈতিক জীবনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাস্তায় নেমে আন্দোলন থেকে শুরু করে মঞ্চে মানুষের হয়ে গলা তোলা—এই পরিচিত ‘জননেত্রী’ রূপই এ বার দেখা গেল সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে। ফলে আদালতের রায় যাই হোক, সাধারণ মানুষের মনে তাঁর ভাবমূর্তি আরও শক্ত হবে বলেই মত একাংশের।
তৃণমূল নেতৃত্বের অন্দরের কথাবার্তাও তেমনই। তাঁদের বক্তব্য, জনপ্রতিনিধি মানে শুধু সংসদ বা বিধানসভায় কথা বলা নয়—প্রয়োজনে শীর্ষ আদালতেও মানুষের হয়ে দাঁড়ানো। এসআইআর পর্বে লাখ লাখ মানুষ যে হয়রানির শিকার হয়েছেন, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন সেই দায় এড়াতে পারে না—এই বার্তাই মমতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
বিরোধীরা অবশ্য পুরো ঘটনাকে ‘নাটক’ বলে খোঁচা দিতে ছাড়েনি। কিন্তু শাসকদল তাতে গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাদের দাবি, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রশ্নে মমতা কখনও পিছপা হন না—এই ছবিটাই ফের একবার স্পষ্ট হয়ে গেল।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে এসআইআরে নাম বাদ পড়লে তৃণমূল বিপাকে পড়বে কি না—এই প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বলেন, এমন কোনও আশঙ্কা নেই। বরং তাঁর কথায়, প্রয়োজনে বিজেপির লোকেরাই তাঁকে ভোট দেবে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপে আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল তিন দিক থেকেই লাভবান—বিরোধীদের কোণঠাসা করা, বিজেপির নেতৃত্বের শূন্যতা তুলে ধরা এবং সর্বোপরি সাধারণ মানুষের কাছে নিজেকে একমাত্র লড়াকু মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
এজলাসে জনতার লড়াই! এসআইআর ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে কমিশনকে চ্যালেঞ্জ মমতার


