বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা। বেহালার এক মোড় ভরে উঠেছে আলো, গান আর মানুষের ভিড়ে। প্রাক স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান চলছে। মঞ্চে উঠেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে স্থানীয় সাংসদ মালা রায় ও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। শুরুতেই মমতা বলেন, আজ তাঁর খুব আনন্দ হচ্ছে—কারণ বেহালা মেট্রো সম্প্রসারণের কাজ শেষ হয়েছে, আর সেই পথে আজ থেকে মেট্রো চলাচল শুরু হয়েছে। “এই মেট্রো আসার পেছনে আমিও কিছুটা চেষ্টা করেছি,” মমতার গলায় তখন খুশির ঝলক।
তারপরেই তিনি কথার মোড় ঘোরান বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের দিকে। দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন, “ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে যদি কোনও রাজ্য সবচেয়ে বেশি অংশ নিয়ে থাকে, তা হল বাংলা। বাংলার মাটি সোনার চেয়েও খাঁটি।” শ্রোতাদের মনে করিয়ে দেন সেইসব অনুপ্রেরণামূলক গানের কথা, যা স্বাধীনতার সময় মানুষকে লড়াইয়ের সাহস দিয়েছিল। উল্লেখ করেন ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’ গানটির কথা। জানান, এর গীতিকার মোহিনী চৌধুরীর বাড়ি বেহালায়। “আমি নিজে জীবিত অবস্থায় তাঁর বাড়ি গিয়ে প্রণাম করেছি,” বলেই মমতা আক্ষেপ করেন—এত গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষকে আজ অনেকেই চেনেন না, শুধু গানটাই বেশি জনপ্রিয় হয়েছে।
এরপর মুখ্যমন্ত্রীর গলায় শোনা যায় ক্ষোভের সুর। ‘এসআইআর’ প্রসঙ্গে তোপ দাগেন তিনি। অভিযোগ করেন, এই বিশেষ নিবিড় সংশোধনের আড়ালে আসলে NRC ও CAA চালু করার চেষ্টা চলছে। বলেন, “১৯৮২ সালের আগে কোন মা-বাবার জন্মসনদ আছে? ২০০২ সালে জন্মানো কোন নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় থাকবে?”
তিনি আরও অভিযোগ তোলেন, দিল্লির সরকার বারবার বাংলাকে অপমান করছে। বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা অন্য রাজ্যে বাংলায় কথা বললে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন, এমনকি জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, “বাংলায় কথা বলা অপরাধ নাকি?” সতর্কবাণী দিয়ে মমতা বলেন, “বাংলা এই অপমান মেনে নেবে না। গর্জে উঠবেই।”
বেহালার আকাশে তখন গানের সুর ভেসে বেড়াচ্ছে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে একদিকে স্বাধীনতার স্মৃতি, অন্যদিকে বাঙালি অস্মিতার লড়াই—দুটোই মিলেমিশে যেন হয়ে উঠল প্রাক স্বাধীনতা দিবসের বার্তা।


