মালদহের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্যায় আর যাতে কেউ অসুবিধার মুখে না পড়েন, সেই লক্ষ্যেই নবান্ন চালু করতে চলেছে বিশেষ ‘মে আই হেল্প ইউ’ শিবির। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় এই শিবির হবে একপ্রকার সুরক্ষাবর্ম।
সভামঞ্চ থেকে মমতার স্পষ্ট বার্তা— “নিশ্চিন্তে থাকুন, আমি আপনাদের পাহারাদার।” তাঁর ব্যাখ্যায়, বহু মানুষ অভিযোগ করছেন যে নাম থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকায় খুঁজে পাচ্ছেন না, কোথাও আবার ঠিকানা পরিবর্তন বা ভুল তথ্য সংশোধন করতে নানাভাবে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই সমস্ত সমস্যার মোকাবিলা করতেই প্রশাসনকে মানুষমুখী করার উদ্যোগ হিসেবে শিবির শুরু করা হচ্ছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, প্রতিটি জেলায় ধারাবাহিকভাবে এই শিবির আয়োজিত হবে। স্থানীয় নির্বাচন দফতর, ব্লক প্রশাসন, পঞ্চায়েত অফিস ও জেলা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বিশেষ টিম গঠন করা হবে। সেই টিম সরাসরি জনগণের অভিযোগ শুনে现场েই যাচাই-বাছাই করবে। প্রয়োজনে সঙ্গে সঙ্গেই নথিপত্র যাচাই করে সংশোধনের কাজ শুরু হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করবে নবান্নের বিশেষ সেল।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রের নিয়ম পরিবর্তনের কারণে বা কারিগরি ত্রুটির ফলে অনেক প্রবীণ বা গ্রামীণ মানুষ অযথা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কেউ আবার বহু বছর ধরে একই জায়গায় বসবাস করলেও ভোটার তালিকায় নাম যাচাইয়ে সমস্যা হচ্ছে। মমতার মতে, “মানুষকে দৌড় করাতে হবে কেন? প্রশাসনই মানুষের কাছে পৌঁছবে।”
এদিনের সভায় মুখ্যমন্ত্রী আরও নির্দেশ দেন, কোনও বৈধ ভোটার যেন তালিকার বাইরে না থাকেন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে। প্রয়োজন হলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই অভিযান চালানো হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ জানান, কিছু জায়গায় ইচ্ছাকৃতভাবে বানচাল করা হচ্ছে সাধারণ মানুষের অধিকার। তাই এই শিবির হবে সাধারণ মানুষকে সুবিচার দেওয়ার সবচেয়ে দ্রুত মঞ্চ।
মালদহের সভায় উপস্থিত সাধারণ মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় আশাবাদী। তাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও যেখানে সমাধান পাওয়া যায়নি, সেখানে এ ধরনের শিবির মানুষের জীবন অনেক সহজ করে তুলবে। স্থানীয় প্রশাসনের তরফেও জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুসারে শিবিরের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।


