গত সাড়ে তিন মাসে তৃতীয়বার বাংলায় এলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার একগুচ্ছ মেট্রো প্রকল্পের উদ্বোধনের পাশাপাশি দমদম সেন্ট্রাল জেল ময়দানে জনসভা করেন তিনি। বক্তব্যের শুরুতেই বাংলায় শ্রোতাদের উদ্দেশে মোদি বলেন, “বড়রা প্রণাম নেবেন আমার, ছোটরা ভালোবাসা।” এর পর দক্ষিণেশ্বর, কালীঘাট ও করুণাময়ী কালী মন্দিরের নাম উচ্চারণ করে প্রণাম জানান তিনি। বাংলার শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর প্রসঙ্গও টেনে আনেন।
তবে এদিন রাজনৈতিক মহলের নজর কাড়ে আরেকটি দিক। বক্তৃতায় মোদির মুখে উঠে আসে ভক্ত হনুমানের নাম। সভার আগে তিনি দমদম হনুমান মন্দিরে প্রণামও করেন। অনেকের মতে, দমদম-সহ রাজ্যে বড় একটি হিন্দিভাষী ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে, যাদের মধ্যে বহু মানুষ হনুমানের ভক্ত। সেই ভোটারদের মন পেতেই মা কালী ও হনুমানের নাম পাশাপাশি উচ্চারণ করেছেন মোদি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ব্যাখ্যা, শহরাঞ্চলে রামনাম-নির্ভর উগ্র হিন্দুত্ব তেমন সাড়া পায় না। তাই দুর্গা, কালী ও হনুমানের মিশ্রণে মোদি ‘আর্বান’ হিন্দু ভোটারদের আবেগকে একসঙ্গে টানতে চাইছেন। এতে যেমন বাঙালি আবেগের সুর বাজছে, তেমনই হিন্দিভাষী ভোটারদের প্রতিও বার্তা পৌঁছচ্ছে।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, মোদির এই কালী-হনুমান প্রসঙ্গ কি নিছক আবেগ জাগানো, নাকি নির্বাচনের আগে সুনির্দিষ্ট ভোট কৌশল?


