আবহাওয়ার কারণে রানাঘাটে সশরীরে সভায় হাজির হতে না পারলেও, কলকাতা ছাড়ার পরেই এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে একগুচ্ছ পোস্ট করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিট নাগাদ দেওয়া সেই পোস্টগুলির শুরুতেই মোদী লেখেন, রানাঘাটের সভায় তিনি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। তাই সেই না-বলা কথাগুলিই তিনি লিখিতভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরছেন।
রানাঘাটের ফোন-ভাষণে মতুয়া সমাজের উল্লেখ থাকলেও, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত SIR প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ দূর করার মতো কোনও স্পষ্ট বার্তা না থাকায় হতাশ হয়েছিলেন অনেকেই। নদিয়ার তাহেরপুরের মাঠ থেকে সভা শেষ হওয়ার পর মতুয়া সমাজের একাংশ সেই হতাশা প্রকাশও করেন। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তীব্র আলোচনা—কেন প্রধানমন্ত্রী কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীরব থাকলেন?
সেই সব প্রশ্নের উত্তরই যেন সন্ধ্যার এক্স পোস্টে দিলেন মোদী। মতুয়া ও নমশূদ্র সমাজের উদ্দেশে তিনি লিখলেন, “আমি প্রত্যেকটি মতুয়া ও নমশূদ্র পরিবারকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, আমরা সর্বদা তাঁদের সেবায় নিয়োজিত থাকব।” তাঁর কথায়, এই সমাজের সম্মান, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন সরকারের অগ্রাধিকারেই থাকবে।
একই সঙ্গে যুবভারতীকাণ্ড নিয়েও সরব হন প্রধানমন্ত্রী। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেন। সরাসরি নাম না করলেও, রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার অভিযোগ তুলে ধরেন মোদী।
ফলে রানাঘাটের মঞ্চে যে সব কথা বলা হয়নি, সেগুলিই সন্ধ্যায় এক্সে লিখে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের আগুনে ঘি ঢাললেন প্রধানমন্ত্রী। ভোটের মুখে এই বার্তা কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।


