স্টোরি
উত্তরবঙ্গ এখন ভয়াবহ বন্যার কবলে। গ্রামজুড়ে জল, ভেসে গিয়েছে সেতু, ধসে পড়েছে কালভার্ট। চারদিকেই শুধুই আতঙ্ক। অথচ সেই ভয় আর বিপদের মাঝেই এক চিকিৎসক দেখিয়ে দিলেন মানবিকতার আসল অর্থ। তিনি নাগরাকাটার বিএমওএইচ—ডাঃ ইরফান হোসেন।
মঙ্গলবার গভীর রাতে নাগরাকাটার খেরকাটা গ্রামে হঠাৎই প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয় এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার। নাম শিলা খারিয়া, বয়স মাত্র ২০। এলাকার সঙ্গে হাসপাতালের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন। রাস্তায় জল, সেতু ভেঙে গেছে। তবুও খবর পৌঁছতেই নিজের নিরাপত্তার কথা ভুলে ছুটে যান ইরফান।
সঙ্গে নেন সহকর্মী কৃষ্ণেন্দু সরকার ও মুন্না হককে। সিভিল ডিফেন্সের বোটে চেপে পার হন উত্তাল নদী। তারপর মোবাইলের আলোয় কাদা আর অন্ধকারে পায়ে হেঁটে পৌঁছে যান গ্রামে। ততক্ষণে পরিবারের সদস্যরা কষ্ট করে শিলাকে নিয়ে এসেছেন ভাঙা সেতুর ধারে। স্ট্রেচারে তুলে নদীর ঘাটে নিয়ে আসেন চিকিৎসক দল।
বোটে নদী পার করে তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্সে তোলা হয়। প্রথমে নাগরাকাটা শুলকাপাড়া হাসপাতাল, পরে মালবাজারে স্থানান্তর করা হয় শিলাকে। বর্তমানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।
ইরফান বলেন, “এটা কোনও বীরত্ব নয়, দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র।”
কিন্তু স্থানীয়দের মতে, এটা কেবল দায়িত্ব নয়—মানবিকতার চরম উদাহরণ। তাঁরা বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে যেভাবে নদী পার হয়ে তিনি পৌঁছে গিয়েছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।”
এর আগেও ইরফানকে এনডিআরএফের তৈরি জিপ লাইনে ঝুলে ওষুধ পৌঁছে দিতে দেখা গিয়েছিল দুর্গম এলাকায়। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। আবারও তিনি প্রমাণ করলেন—দায়িত্বের বাইরে গিয়ে মানবিকতা আজও আছে।


