‘অব কি বার মোদি সরকার’— এই আইকনিক স্লোগানের জনক, বিজ্ঞাপন জগতের পথিকৃৎ ও অপ্রতিম কপিরাইটার পীযূষ পাণ্ডে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ৭০ বছর বয়সে। তাঁর লেখা প্রতিটি ক্যাচলাইন প্রোডাক্টের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দশকের পর দশক ধরে, এবং ভারতের বিজ্ঞাপন জগৎকে এক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে ভাবতে শিখিয়েছেন।
পীযূষ পাণ্ডে প্রায় চার দশক ধরে বিজ্ঞাপন জগতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ওগিলভির চিফ ক্রিয়েটিভ অফিসার ও ওয়ার্ল্ডওয়াইড এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর ব্রেনচাইল্ড ‘কুছ খাস হ্যায়’ ক্যাডবেরি থেকে শুরু করে ফেভিকল, এশিয়ান পেইন্টসের আইকনিক বিজ্ঞাপনের স্ক্রিপ্টগুলো তৈরি করেছেন। এছাড়াও লুনা মোপেড, ফরচুন অয়েলসহ আরও বহু ব্র্যান্ডের উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপন তাঁর শৈল্পিক কলমের ছোঁয়ায় সমৃদ্ধ।
ফেভিকলের ‘ইয়ে ফেভিকল কা মজবুত জোড়’, ক্যাডবেরির ‘কুছ খাস হ্যায়’, এশিয়ান পেইন্টসের ‘হর খুশি মে রং লায়’— এইসব ক্যাচলাইন শুধু বিপণনের অংশ নয়, মানুষের মনের মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছে। বিজ্ঞাপন বিশেষজ্ঞদের মতে, পীযূষ পাণ্ডের পথ অনুসরন করেই ভারতীয় বিজ্ঞাপন জগৎ সাবালক হয়েছে। তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছিলেন পদ্মশ্রী সম্মান।
শুধু বিজ্ঞাপনই নয়, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী পীযূষ পাণ্ড অভিনয় ও সংগীতেও সক্রিয় ছিলেন। ২০১৩ সালে জন আব্রাহাম অভিনীত “মাদ্রাজ ক্যাফে” ছবিতে অভিনয় করেছেন। এছাড়াও আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের বিপণন প্রচারণা ও ম্যাজিক পেন্সিল প্রজেক্ট ভিডিওতেও তিনি ছিলেন দৃশ্যমান। তাঁর লেখা ‘মিলে সুর মেরা তুমহারা’ ৮০ ও ৯০ দশকের শিশুদের মনে আজও জীবন্ত।
বিজ্ঞাপন জগতের অন্যতম কাণ্ডারী পীযূষ পাণ্ডের মৃত্যুতে শোকে মূহ্যমান দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন সম্প্রদায়। তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। প্রয়াত এই কিংবদন্তির চলে যাওয়া বিজ্ঞাপন দুনিয়ায় একটি শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।



