সাড়ে তিন বছরের দীর্ঘ কারাবাসের পর অবশেষে ঘরে ফিরেছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এ যেন এক অধ্যায়ের সমাপ্তি, আবার এক নতুন জল্পনার সূচনা। আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি মিলতেই যেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে এল সেই চেনা জুটি— পার্থ ও অর্পিতা। রাজনীতির মঞ্চে নয়, এবার আলোচনার কেন্দ্রে তাঁদের ‘সম্পর্ক’।
যখন পার্থ কারাগারে, তখনও সংবাদমাধ্যমের একেকটি পৃষ্ঠা ভরেছিল অর্পিতার নামেই। তাঁর দক্ষিণ কলকাতার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছিল পাহাড়প্রমাণ টাকা— প্রায় ৫০ কোটি নগদ এবং সোনার গয়না। সেই থেকেই অর্পিতা হয়ে উঠেছিলেন ‘বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু’। দু’জনের সম্পর্ক নিয়ে শুরু হয়েছিল গুঞ্জন, কটাক্ষ, সমালোচনা— রাজনীতি থেকে রাস্তাঘাট, সর্বত্রই।
এবার সেই বিতর্কে নিজেই মুখ খুললেন অভিনেত্রী। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্পিতা জানালেন, “উনি তো আমার বন্ধুই। যদি উনি আমাকে বান্ধবী ভাবেন, আমি বন্ধু বলতে আপত্তি করব কেন? এটা পরকীয়া নয়, বন্ধুত্ব কোনও অপরাধ নয়।”
অর্পিতার কথায়, “আমাদের মধ্যে বয়সের পার্থক্য আছে, জীবনের জায়গাও আলাদা। কিন্তু যেভাবে মানুষ আমাদের সম্পর্ক নিয়ে অকারণে রটনা ছড়িয়েছে, যেভাবে কালিমা লাগানোর চেষ্টা হয়েছে, সেটা কষ্ট দেয়।”
পার্থ বরাবরই দাবি করে এসেছেন, তিনি অর্পিতাকে চিনতেন না। কিন্তু তদন্তের সময় ও আদালতের ভারচুয়াল শুনানিতে তাঁদের ‘চোখের ভাষা’ই যেন অনেক কিছু বলেছিল— অন্তত জনমানসে তাই ধারণা তৈরি হয়। অর্পিতা এ নিয়ে বলেন, “আমাদের বন্ধুত্ব রাজনীতির কারণে নয়। আমি কোনও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে যাইনি, একুশে জুলাই মঞ্চে বা চলচ্চিত্র উৎসবে কখনও উপস্থিত ছিলাম না। আমি পার্থদার পাশে থেকেছি এক বন্ধুর মতো।”
প্রশ্ন উঠছে, এখন কি আবার রাজনীতিতে ফিরবেন পার্থ? অর্পিতা সেই প্রশ্নের উত্তর না দিলেও তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট— “ওঁর শরীর এখন বিশ্রাম চায়, রাজনীতিতে ফেরা ওঁর নিজের সিদ্ধান্ত। আমি শুধু চাই, উনি ভালো থাকুন।”
জেলজীবন নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। প্রায় দুই বছর চার মাস কারাগারে কাটানোর পর তাঁর আক্ষেপ, “বাংলার এক মেয়েকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল, কেউ কিছু বলেনি। তবে আমি কারও উপর রাগ পুষে রাখিনি। দোষারোপও করছি না। সময়ই একমাত্র সত্যিটা বলবে।”
সবশেষে, এখন সকলের নজর একটাই— পার্থ ও অর্পিতা কি ফের মুখোমুখি হবেন? তাঁদের ‘বন্ধুত্ব’ কি এবার প্রকাশ্যে আসবে? সময়ই তার উত্তর দেবে।


