লোকসভা ভোটকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক কৌশলে এ বার বড় পরিবর্তন। টানা কয়েক মাস রাজ্যে কোনও বড়সভা না করলেও, হঠাৎই মতুয়াগড়কে কেন্দ্র করে ভোটপ্রচার শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মতুয়া সমাজের গুরুত্ব ও তাদের ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব যে কতখানি, তা ফের একবার স্পষ্ট করল এই সিদ্ধান্ত।
এ দিন মতুয়াগড়ে বিশাল জনসমাবেশে উন্নয়ন ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের উল্লেখ থাকলেও, রাজনৈতিক মহলের নজর ছিল মোদির দলের উদ্দেশে বার্তার দিকে। কারণ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিজেপির অন্দরে অসন্তোষ জাঁকিয়ে বসেছে। একাধিক সাংসদের নিষ্ক্রিয়তা, এলাকায় যোগাযোগহীনতা এবং সাংগঠনিক কাজে শৈথিল্য নিয়ে অভিযোগ বাড়ছিল। সেই অসন্তোষের প্রতিফলনই যেন দেখা গেল মোদির ভাষণে।
দলীয় সূত্রের দাবি, বিভিন্ন সাংসদের কাজকর্মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সন্তুষ্ট নন। ভোটের মুখে মাঠে নেমে মানুষের দরজায় দরজায় পৌঁছনোর নির্দেশ বহুবার দেওয়া হলেও, তার বাস্তব প্রয়োগ ততটা চোখে পড়ছে না। এমনকি যে সাংসদরা ধরে নিয়েছিলেন, ‘SIR’— অর্থাৎ Safe, Impactful, Repeatable আসন হিসেবে নিজেদের ক্ষেত্রকে তুলে ধরলে সহজেই কেন্দ্রের সবুজ সংকেত মিলবে—সেই ধারণাও নস্যাৎ করে দিলেন মোদি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শুধু রাজনৈতিক তকমা নয়, কাজের ভিত্তিতেই আসন রক্ষা বা পুনঃমনোনয়ন মিলবে।
এদিনের সভায় মোদি সরাসরি সাংসদদের নাম না নিলেও, তাঁর বার্তা ছিল কঠোর—দলের শক্তি মাঠে তৈরি করতে হয়, দিল্লির ভরসায় বসে থাকলে চলবে না। বিজেপির অন্দরের অনেকেই মনে করছেন, এ বক্তব্য আসলে শাসকদলে আত্মতৃপ্তিতে ভুগতে থাকা সাংসদদের সতর্কবার্তা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় বিজেপির সংগঠনগত দুর্বলতা বহুবার সামনে এসেছে। নেতা-কর্মীদের মধ্যে দূরত্ব, মাইক্রো-লেভেল সংগঠনে শৈথিল্য—সব মিলিয়ে ভোটের আগে উদ্বেগে ছিল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তাই নিজের হাতেই রাজ্যে জোরদার প্রচারের দায়িত্ব তুলে নিয়ে মোদি স্পষ্ট করে দিলেন—লোকসভা নির্বাচনে বাংলাকে কোনওভাবেই অবহেলা করা যাবে না।
মতুয়া ভোটব্যাঙ্ককে কেন্দ্রীয় করে এই শুরু ভবিষ্যতে আরও বড় কর্মসূচির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিজেপি সূত্রের মতে, আগামী দু’মাসে ধারাবাহিক সভা, রোডশো এবং সংগঠন শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিতে পারে দল। কারণ মোদির বার্তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট—কাজ না করলে টিকিট নয়।


