তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক অভিযোগে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। রাজভবন থেকে বন্দুক-বোমা সরবরাহ করা হচ্ছে—এই দাবি শুক্রবার প্রকাশ্যে করেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। তাঁর মন্তব্য ঘিরে জোর চাঞ্চল্য ছড়াতেই রবিবার সকাল থেকে অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ নিল রাজভবন। সিংহ দুয়ার খুলে দেওয়া হল সাধারণের জন্য। সাংসদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক—সব মিলিয়ে ১০০ জনকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। সঙ্গে জারি করা হয়েছে কড়া বিবৃতি।
বিহার নির্বাচনে এসআইআর ব্যবস্থার সাফল্যের পর রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এ রাজ্যেও সেই ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন শনিবার। তাঁর দাবি, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এসআইআর অত্যন্ত কার্যকর। বিহারের মতো বাংলার মানুষও এই পদ্ধতি ভালোভাবে গ্রহণ করবেন বলেই মত তাঁর। এই মন্তব্যের পরই ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, রাজভবনে বিজেপির ‘অপরাধীদের’ আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, এবং ‘অস্ত্র’ সরবরাহের অভিযোগ তুলেও সরাসরি আক্রমণ করেন রাজ্যপালকে। তিনি জানান, “রাজভবনে অপরাধী রেখে বোমা-বন্দুক দিচ্ছেন। বলছেন, তৃণমূলকে মেরে আসতে! আগে এগুলো বন্ধ করুন।”
রাজভবনের তরফে অবশ্য সেই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, সাংসদের বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অসদুদ্দেশ্যপ্রসূত। রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যে রাজভবন খোলা রাখার সিদ্ধান্তকে ‘স্বচ্ছতা ও প্রমাণের পথে হাঁটা’ বলে দাবি করেছে রাজ্যপাল ভবন।


