শিয়ালদহ ডিভিশনে যাত্রী চাপ প্রতিদিনই বাড়ছে। পূর্ব রেলের তথ্য বলছে, শিয়ালদহের মেইন ও দক্ষিণ শাখা মিলিয়ে প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৮ লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করেন। শুধু শিয়ালদহ স্টেশন নয়, বিধাননগর স্টেশন থেকেও প্রতিদিন ওঠানামা করেন ১ লক্ষ ৭০ হাজারের বেশি যাত্রী। এই বিপুল ভিড়ের চাপে কার্যত নাজেহাল যাত্রী ও রেল প্রশাসন।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল পূর্ব রেল। সম্প্রতি শিয়ালদহ ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, যাত্রী চাপের নিরিখে বিভিন্ন রুটে বাড়ানো হবে লোকাল ট্রেনের সংখ্যা। ইতিমধ্যে ১০টি অতিরিক্ত ট্রেন চালু হয়েছে।
এখন শিয়ালদহ ডিভিশনের মেইন ও দক্ষিণ শাখা মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৯২৫টিরও বেশি ট্রেন চলে, তবে কর্তৃপক্ষের মতে তা যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে বিধাননগর, দমদম ক্যান্টনমেন্ট, ক্যানিং, বনগাঁ, বারাসত ও ডায়মন্ড হারবার রুটে ট্রেন বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
শুধু ট্রেন সংখ্যা বৃদ্ধিই নয়, ট্রেনের সময়সূচি ও যাত্রীঘনত্ব সম্পর্কেও রিপোর্ট নিয়েছেন ডিআরএম। পাশাপাশি শিয়ালদহ স্টেশনের চাপ কমাতে, কিছু ট্রেনের অন্তিম স্টেশন হিসেবে ব্যবহার করা হবে বিধাননগর স্টেশনকে। জানা গিয়েছে, শিয়ালদহের পরিবর্তে এখন থেকে দু’টি ট্রেন ছাড়বে বিধাননগর থেকে কল্যাণী স্টেশনের উদ্দেশে এবং বিপরীতে ফিরবে কল্যাণী থেকে বিধাননগরে।
শুধু তাই নয়, এই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিকে হকারমুক্ত করার কাজও শুরু করেছে রেল। বিধাননগর স্টেশন থেকে ইতিমধ্যেই সেই কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
রেল বোর্ড থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে পূর্ব রেল। আগামিদিনে যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্যের স্বার্থে আরও রুটে ট্রেন বাড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না কর্তৃপক্ষ।


