বিদায় শংকর: শেষ ইচ্ছেপূরণেই আজ কেওড়াতলায় অন্ত্যেষ্টি

Spread the love

বাংলা সাহিত্য যেন হঠাৎ করেই শূন্যতায় ডুবে গেল। ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন প্রবাদপ্রতিম সাহিত্যিক শংকর। শুক্রবার বেলা পৌনে ১টা নাগাদ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। জন্মনাম মণিশংকর মুখোপাধ্যায়—কিন্তু পাঠকের কাছে তিনি চিরকাল শুধুই শংকর, শহুরে জীবনের মায়া-মমতা, সংগ্রাম আর বাস্তবতার নির্মোহ কথক।
মৃত্যুর আগেই নিজের বিদায়ের আচার সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশ লিখে রেখে গিয়েছিলেন তিনি। ২০২৩ সালে তৈরি করা উইলে জানিয়ে দেন, তাঁর দেহ যেন কোনওভাবেই ঠান্ডাঘরে রাখা না হয়। মৃত্যুর দিনই দাহকার্য সম্পন্ন করতে হবে—এই ছিল তাঁর ইচ্ছা। সেই নির্দেশ মেনেই শুক্রবারই সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য, দক্ষিণ কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশান-এ।
উইলে আরও উল্লেখ ছিল, যদি হাসপাতালে মৃত্যু হয়, তবে সেখান থেকে প্রথমে বন্ডেল রোডের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে দেহ, তারপর সোজা শ্মশানে। তাঁর কর্মস্থল কিংবা রবীন্দ্রসদন-এর মতো কোনও প্রেক্ষাগৃহে দেহ শায়িত রাখা যাবে না। নিথর শরীরের উপর অযথা কিছু চাপিয়ে না দেওয়ার কথাও স্পষ্ট করে লিখেছিলেন সাহিত্যিক। স্ত্রী ও মায়ের মতোই তাঁর অন্ত্যেষ্টিও যেন কেওড়াতলাতেই হয়—এই আবেগঘন ইচ্ছাও ছিল সেই নথিতে।
উইলে দে’জ পাবলিশিংয়ের কর্ণধার সুধাংশুশেখর দে-কে ‘কাস্টডিয়ান’ হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে যান তিনি। মৃত্যুসংবাদ আত্মীয়স্বজনদের জানানো হবে, কিন্তু কারও জন্য অপেক্ষা না করে দাহকার্য সম্পন্ন করার নির্দেশও ছিল স্পষ্ট।
এই মুহূর্তে তাঁর ছোট মেয়ে তনয়া কলকাতায় রয়েছেন। বড় মেয়ে আমেরিকা থেকে ২২ তারিখে পৌঁছবেন। তবু বাবার শেষ ইচ্ছাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে পরিবার। তাই অপেক্ষা নয়, আজই শেষ যাত্রা।
সাহিত্যিক শংকর আর নেই—কিন্তু তাঁর সৃষ্টি, তাঁর চরিত্ররা থেকে যাবে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে চিরকাল।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *