এসআইআর প্রক্রিয়ায় নামের বানান ও পরিচয় বিভ্রাট নিয়ে সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের কারণেও বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই বিষয়টি আদালতের নজরে আনার জন্য মমতাকে ধন্যবাদও জানান তিনি।
বুধবার শীর্ষ আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এসআইআর কার্যত নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় ভাষায় থাকা ২০০২ সালের ভোটার তালিকার নাম ইংরেজিতে রূপান্তরের সময় পদবির বানান বদলে যাওয়ায় বিপাকে পড়ছেন বহু মানুষ। মমতার আইনজীবী শ্যাম দেওয়ান যুক্তি দেন, গাঙ্গুলি, রায় বা চ্যাটার্জির মতো পদবির বানান বদলকে কোনও ভাবেই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ বলা যায় না।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, “এআই ব্যবহারে এখন সমস্যা তৈরি হচ্ছে। কোনও বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।”
মমতা আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের পর মহিলাদের নাম ও ঠিকানা বদলের বিষয়টি একেবারেই উপেক্ষা করা হচ্ছে। শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পর স্বামীর পদবি নেওয়ায় বহু মহিলার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। গরিব মানুষের স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এই বক্তব্য শুনে প্রধান বিচারপতির কড়া মন্তব্য, “এভাবে চলতে পারে না।”
ভোটের মুখে এসআইআর নিয়ে তাড়াহুড়ো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ২৪ বছর পর হঠাৎ করে মাত্র তিন মাসে এসআইআর শেষ করার চেষ্টা হচ্ছে কেন? চার রাজ্যে নির্বাচন হলেও শুধু বাংলাকেই নিশানা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার চাপে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, বহু বিএলও প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকে হাসপাতালে ভর্তি—এমন অভিযোগও করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, অসমে কেন এসআইআর হচ্ছে না?
এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ রাজ্য-রাজনীতি ও নির্বাচন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বিতর্ক উসকে দিল।


