কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের ১০৪তম জন্মবার্ষিকীতে এক অভিনব উদ্যোগে তাঁর লেফরয় রোডের বাড়ির বাইরের প্রাচীর পরিণত হয়েছে একটি খোলা স্ট্রিট আর্ট মিউজিয়ামে। প্রায় ১২০ ফুট লম্বা এই প্রাচীরজুড়ে ফুটে উঠেছে রায়ের শিল্পজীবনের নানা দিক—তাঁর আঁকা চিত্র, তুলির রেখায় ফুটে ওঠা কল্পনা, ছবি ও ম্যাগাজিন কভারের উচ্চ রেজোলিউশনের প্রিন্ট।এই খোলা প্রদর্শনী আলোকিত হয় সন্ধ্যার পর, যাতে পথচলতি মানুষ রাতেও উপভোগ করতে পারেন সত্যজিৎ-স্মৃতি। শুধু প্রাচীর নয়, এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বাক্সেও আঁকা হয়েছে রায়ের সিনেমা-অনুপ্রাণিত মুরাল এবং ল্যাম্পপোস্টে বসানো হয়েছে ব্যাকলিট পোস্টার।এই প্রকল্পের মূল উদ্যোক্তা ইফতেখার আহসান পাতেরিয়া জানান, “সত্যজিৎ রায় শুধুই পরিচালক ছিলেন না—তিনি ছিলেন একজন শিল্পী, লেখক, সুরকার। এই প্রদর্শনী সেই বহুমাত্রিক মানুষটিকে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার প্রয়াস।”প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছেন রায়-পুত্র পরিচালক সন্দীপ রায় এবং স্থানীয় কাউন্সিলর ও কলকাতা পুরসভার মেয়র-ইন-কাউন্সিলের সদস্য অসীম বসু। সন্দীপ রায় প্রদর্শনীতে ব্যবহৃত ছবির চূড়ান্ত নির্বাচন করেন এবং অসীম বসু এই উদ্যোগের প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করেন।প্রায় ২৭ জন পৃষ্ঠপোষকের আর্থিক সহায়তায় গড়ে ওঠা এই প্রকল্প কেবল স্থানীয় মানুষের নয়, সারা শহরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এখানে সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র থেকে ক্লিপ প্রদর্শনের জন্য একটি ইলেকট্রনিক স্ক্রিন বসানো হবে, সেই সঙ্গে খোলা হবে একটি বইয়ের দোকান—যেখানে মিলবে সত্যজিৎ ও তাঁর পিতা সুকুমার রায়ের বই।কাউন্সিলর অসীম বসুর মতে, এই প্রকল্প কেবল এক ব্যক্তিকে শ্রদ্ধা জানানো নয়, বরং গোটা অঞ্চলটিকে একটি ‘হেরিটেজ জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ।এই অভিনব স্ট্রিট মিউজিয়াম শুধু এক মহান শিল্পীকে স্মরণ করে না, বরং শহুরে সংস্কৃতির সঙ্গে ইতিহাসের সংযোগ রচনার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
সত্যজিৎ রায়ের জন্মদিনে লেফরয় রোডে খোলা আকাশের নিচে ‘স্ট্রিট আর্ট মিউজিয়াম’


