বিশ্বজুড়ে চিকিৎসা পর্যটনের দৌড়ে ভারতকে সামনে আনতেই স্বাস্থ্যনীতিতে বড়সড় বাজি ধরল মোদি সরকার। ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে একদিকে যেমন জীবনদায়ী ওষুধের দাম কমানোর ঘোষণা, তেমনই অন্যদিকে ভারতের প্রাচীন আয়ুর্বেদ চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে তুলে ধরার স্পষ্ট রূপরেখা পেশ করল কেন্দ্র।
বাজেট অনুযায়ী, আধুনিক চিকিৎসা পরিকাঠামোর পাশাপাশি এবার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে আয়ুর্বেদ। এমসের ধাঁচে দেশে তৈরি হবে তিনটি ‘অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ আয়ুর্বেদ’, যেখানে গবেষণা, চিকিৎসা ও শিক্ষার সমন্বয়ে গড়ে উঠবে নতুন প্রজন্মের হেলথ কেয়ার সেন্টার। সরকারের লক্ষ্য—অ্যালোপ্যাথি ও আয়ুর্বেদের যুগলবন্দিতে ভারতের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আলাদা পরিচিতি দেওয়া।
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ বাজেট বক্তৃতায় জানান, অতিমারি পরবর্তী সময়ে ভেষজ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসার প্রতি বিশ্বের আগ্রহ দ্রুত বেড়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই আয়ুর্বেদিক ওষুধ পরীক্ষার ল্যাবগুলির মান উন্নয়ন এবং জামনগরের ‘হু গ্লোবাল ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন সেন্টার’-কে আরও আধুনিক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শুধু চিকিৎসাই নয়, বাজেটে আয়ুর্বেদকে ঘিরে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে তৈরি হবে পাঁচটি আঞ্চলিক মেডিক্যাল হাব, যেখানে চিকিৎসা, গবেষণার পাশাপাশি রোগীদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থাও থাকবে। সরকারের দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভেষজ চাষ, ওষুধ উৎপাদন ও রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
সংসদে বাজেট ঘোষণার সময় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রকাশ্য সমর্থন স্পষ্ট করে দিয়েছে—আয়ুর্বেদকে সামনে রেখেই ভারতকে ভবিষ্যতের গ্লোবাল হেলথ কেয়ার ডেস্টিনেশন হিসেবে গড়ে তুলতে চায় মোদি সরকার।


