কর্তব্য পথে এদিন শুধু কুচকাওয়াজ নয়, আলো কেড়ে নিলেন এক ‘দেশি গার্ল’—ইউরোপের ক্ষমতার অলিন্দ থেকে সোজা ভারতের হৃদয়ে। সাধারণতন্ত্র দিবসের সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাশে বসে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন যেন একেবারে ভারতীয় রূপে ধরা দিলেন। বারাণসীর ঐতিহ্যবাহী বেনারসি কিংখাবের ছোঁয়ায় তাঁর পোশাক দেখে মুহূর্তে থমকে গেল ক্যামেরার লেন্স, ঘুরে গেল দর্শকদের চোখ।
সোনালি-মেরুন রঙের লম্বা জামা, তার সঙ্গে পরিপাটি সাদা ট্রাউজার্স—বিদেশিনীর শরীরে এই দেশি সাজে যেন মিশে গেল কূটনীতি আর সংস্কৃতির এক অনন্য গল্প। সাধারণতন্ত্র দিবসের মতো গাম্ভীর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে উরসুলার এই পোশাক-নির্বাচন নিছক ফ্যাশন নয়, বরং ভারতের প্রতি সম্মান আর ঘনিষ্ঠতার নীরব প্রকাশ বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।
কর্তব্য পথে বসে কুচকাওয়াজ উপভোগের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে উরসুলার কথোপকথনও নজর কাড়ে। হাসি, হালকা আলাপ, আর চোখেমুখে স্বচ্ছন্দ ভঙ্গি—সব মিলিয়ে স্পষ্ট ছিল দু’দেশের সম্পর্কের উষ্ণতা। আর তার মধ্যেই উরসুলার বেনারসি লুক যেন বারবার ফিরে আসছিল আলোচনায়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তখন ঝড়। কেউ লিখলেন, “ইউরোপও আজ দেশি রঙে রাঙা”, কেউ আবার মজা করে বললেন, “দেশি গার্ল উরসুলা অন ডিউটি!” আন্তর্জাতিক অতিথির শরীরে যখন ভারতের তাঁত, তখন তা শুধু পোশাক থাকে না—তা হয়ে ওঠে সাংস্কৃতিক শক্তির প্রদর্শনী। সাধারণতন্ত্র দিবসের এই সকালে তাই কর্তব্য পথ সাক্ষী থাকল শুধু শক্তি প্রদর্শনের নয়, ভারতীয় ঐতিহ্যের নীরব অথচ দৃপ্ত উদযাপনেরও।


