ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের বিস্তীর্ণ অংশে বিদ্যুৎ নেই। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ফাঁকা রাস্তাঘাট, বন্ধ সুপারমার্কেট আর অনিশ্চয়তার ছায়ায় রাজধানীজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির নাটকীয় মোড়ের জেরে দেশটির শাসনব্যবস্থায় চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ গ্রিড ও পরিবহণ পরিকাঠামো। ফলে বহু এলাকায় টানা অন্ধকার, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট পরিষেবা বিপর্যস্ত। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় পুলিশ সাধারণ মানুষকে বাড়িতে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
কারাকাসে বসবাসকারী ভারতীয় অভিবাসীদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য দোকানের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দিতে হচ্ছে। বড় সুপারমার্কেটগুলি বন্ধ থাকায় ছোট স্থানীয় দোকানেই ভরসা। কোথাও কোথাও চুরি করা বিদ্যুৎ সংযোগে মোবাইল চার্জ দেওয়ার জন্যও দীর্ঘ অপেক্ষা—৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অনেকে।
কারাকাসের ভারতীয় অভিবাসী সংগঠনের সদস্য সুনীল মালহোত্রা জানান, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার জেরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিমানবন্দর এলাকা ও সামরিক ঘাঁটিগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত। তাঁর কথায়, “মানুষের মধ্যে ভয় আর অনিশ্চয়তা সবচেয়ে বেশি। কবে বিদ্যুৎ বা স্বাভাবিক পরিষেবা ফিরবে—সে বিষয়ে কেউ কিছু জানাতে পারছে না।”
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন বা সরকারের তরফে সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশে কোনও স্পষ্ট বার্তা মেলেনি বলেও অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলায় থাকা ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে সক্রিয় হয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নির্দেশ ও আপডেট দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
শনিবার বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক্স হ্যান্ডেলে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কোনও ভারতীয় নাগরিককে ভেনেজুয়েলায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, সেখানে থাকা ভারতীয়দের চলাফেরা সীমিত রেখে দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে cons.caracas@mea.gov.in মেল আইডি ও +58-412-9584288 নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
অন্ধকারে ঢাকা রাজধানী, খাবারের জন্য দীর্ঘ লাইন আর অনিশ্চিত আগামী—সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার বর্তমান চিত্রে আতঙ্কই এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।


