নিউ ইয়র্ক শহরের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি করলেন ডেমোক্র্যাট নেতা জোহরান মামদানি। সর্বশেষ ভোট গণনা অনুযায়ী তিনি স্পষ্ট ব্যবধানে জয়ী হয়ে হয়েছেন শহরের নতুন মেয়র। জন্মসূত্রে উগান্ডার নাগরিক এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই প্রগতিশীল নেতা দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসী ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার। তাঁর জয়ের মধ্য দিয়ে নিউ ইয়র্কে প্রথমবার কোনও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক মেয়রের আসনে বসতে চলেছেন।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর জোহরান মামদানি এক আবেগঘন ভাষণে সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এই জয় শুধু আমার নয়, এটা নিউ ইয়র্কের প্রতিটি মানুষের জয় — যারা বিশ্বাস করে সমানাধিকার, সহানুভূতি আর সাহসের রাজনীতিতে।”
তবে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন ফেলেছে তাঁর সরাসরি মন্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে। হাস্যরসাত্মক অথচ কটাক্ষভরা সুরে মামদানি বলেন, “ট্রাম্প, আমি জানি আপনি আমার কথা শুনছেন। আমার আপনাকে চারটি শব্দ বলার আছে — আরও জোরে চিৎকার করুন।”
এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন, ভয় দেখানো বা অপপ্রচারে তিনি পিছিয়ে পড়বেন না। বরং তাঁর লক্ষ্য হবে শহরটিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও মানবিক করে তোলা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য শুধু ট্রাম্পের প্রতি জবাব নয়, বরং মার্কিন রাজনীতিতে তরুণ, প্রগতিশীল নেতৃত্বের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। বিশেষ করে যখন মার্কিন নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পপন্থী রাজনীতি আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে, তখন জোহরান মামদানির এই সোজাসাপ্টা প্রতিক্রিয়া নতুন যুগের রাজনীতির বার্তা বহন করছে।
নিউ ইয়র্কে তাঁর জয়ের পর থেকেই শহরের নানা প্রান্তে উৎসবের আবহ। সমর্থকরা স্লোগান দিচ্ছেন — “This is our New York!”। আগামী সপ্তাহে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে সিটি হলের প্রাঙ্গণে, যেখানে নানা গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ব ছাড়াও সাধারণ নাগরিকদের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।


