ধূমকেতু: ঝলসে উঠল, না ফস্কে গেল?

Spread the love

শঙ্কু সাঁতরা : দশ বছর পর দেব-শুভশ্রী আবার জুটি বেঁধেছেন। নাম রাখা হয়েছে “ধূমকেতু”—শুনলেই মনে হয়, এবার বুঝি বাংলা ছবির আকাশ ফাটবে! কিন্তু না, অনেকটা যেন আতসবাজির মতো—শুরুতে ‘ফটফট’ শব্দ, শেষে শুধু ধোঁয়া।

প্রথমেই আসি দেবের বৃদ্ধ চরিত্রে। মেকআপ দেখে মনে হচ্ছিল, দেব নয়, কোনো থিম পার্কের ভূতুড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা মাস্কধারী কাকা। তবুও শরীরী ভাষা সামলে নিয়েছেন, এটাকে অবশ্যই তারিফ করতে হয়। কিন্তু দর্শকের মন তো ভাবছে—এটা যদি মেকআপ হয়, তবে চরিত্র বুড়ো হলো কোথায়?

শুভশ্রীর কাজ অবশ্য ঠিকঠাক, তবে সমস্যা হলো পরিচালক তাঁকে এমনভাবে দাঁড় করিয়েছেন যেন তাঁর চারপাশে সবসময় নেপথ্যে বেহালা বাজছে। আবেগ প্রকাশ মানেই দীর্ঘশ্বাস আর ক্যামেরায় স্লো-মোশন! আর রুদ্রনীল? তিনি একাই ছবিকে চলন্ত রেখেছেন—মনে হচ্ছিল, “ধূমকেতু” না হয়ে ছবির নাম হওয়া উচিত ছিল “রুদ্রনীলের বন্ধুত্বের কীর্তি।”

চিত্রগ্রহণে পাহাড় সুন্দর, মানতেই হবে। তবে বারবার সেই ড্রোন-শট দেখে মনে হচ্ছিল, ছবির নায়ক না হয়ে হিমালয়ই আসল নায়ক! এদিকে গল্প এগোতে এগোতে দর্শকের ধৈর্য পাহাড়ের থেকেও উঁচু হতে হয়।

সঙ্গীতে তারকারাজি—আরিজিত, শ্রেয়া, অনুপম। গানগুলো ভালো, তবে সমস্যাটা হলো এগুলো অনেকটা আলাদা মিউজিক ভিডিওর মতো। মাঝখানে গান শুরু হলেই মনে হচ্ছিল, পরিচালক হয়তো হঠাৎ YouTube খুলে দিয়েছেন।

সবশেষে, ছবির নাম যেহেতু “ধূমকেতু,” দর্শক ভেবেছিলেন ঝলসে যাবে। বাস্তবে হলো কী জানেন? ধূম অনেক হলো, কিন্তু কেতু ঠিকমতো দেখা গেল না।


“ধূমকেতু” একদম ফ্লপ নয়, আবার সুপারহিটও নয়। বরং এটাকে বলা যায় “নস্টালজিয়ার প্যাকেজ”—যেখানে দেব-শুভশ্রীর পুরোনো রসায়ন গরম ভাতের মতো গিলে নেওয়া যায়, তবে নতুনত্বের খোঁজে যারা গেছেন, তারা হয়তো সিনেমাহল থেকে বেরিয়ে চা-দোকানে বেশি তৃপ্তি পেয়েছেন।

⭐ রেটিং: ২.৫/৫ – দেখতেই পারেন, তবে মনে রাখবেন—এটা ধূমকেতু নয়, বরং ধোঁয়াশা


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *