শঙ্কু সাঁতরা: রসুন (Garlic) প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ, ইউনানি ও আধুনিক ভেষজ চিকিৎসায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রতিদিন এক কোয়া কাঁচা রসুন খাওয়া শরীরকে নানা রোগ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এর ভেতরে উপস্থিত সালফার যৌগ, অ্যালিসিন (Allicin), ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এই বিষয়ে যাদবপুর,বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক ডক্টর. প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস বিশদে আলোক পাত করেন।-
১. হৃদরোগ প্রতিরোধে
রসুন রক্তে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল (LDL) কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়াতে সাহায্য করে। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। নিয়মিত রসুন খাওয়া ধমনী শক্ত হয়ে যাওয়া (Atherosclerosis) প্রতিরোধ করতে সহায়ক।
২. যৌনস্বাস্থ্য উন্নতিতে
প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিতে রসুনকে প্রাকৃতিক কামোদ্দীপক বলা হয়। এতে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, যা পুরুষদের যৌনশক্তি বাড়াতে এবং নারীদের যৌন আকাঙ্ক্ষা জাগাতে সাহায্য করে। রসুন টেস্টোস্টেরন হরমোন উৎপাদনে সহায়তা করে, ফলে শারীরিক শক্তি ও সহনশীলতা বৃদ্ধি পায়। নপুংসকতা ও অন্যান্য যৌন সমস্যার ক্ষেত্রে এটি প্রাকৃতিক টনিকের মতো কাজ করে।
৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে
রসুনের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিভাইরাল গুণ শরীরকে নানা সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। বিশেষ করে ঠান্ডা-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও শ্বাসযন্ত্রের রোগ প্রতিরোধে এটি কার্যকর।
৪. হজম ও যকৃতের জন্য উপকারী
রসুন হজমশক্তি উন্নত করে, ক্ষুধা বাড়ায় এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। এটি যকৃতকে ডিটক্সিফাই করে ও হেপাটাইটিস প্রতিরোধে সহায়ক।
৫. অ্যান্টি-ক্যান্সার প্রভাব
গবেষণায় দেখা গেছে, রসুনের সালফার যৌগ ক্যান্সারের কোষের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করে। বিশেষ করে পাকস্থলী, বৃহদান্ত্র ও প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাসে এটি ভূমিকা রাখতে পারে।
৬. ত্বক ও চুলের যত্নে
রসুনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের বার্ধক্য ধীর করে, ব্রণ প্রতিরোধ করে এবং মাথার ত্বকে রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে।
৭. অন্যান্য উপকারিতা
• রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
• জয়েন্টের ব্যথা ও আর্থ্রাইটিসে উপকার দেয়।
• শরীরের ক্লান্তি ও মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক।
উপসংহার
প্রতিদিন এক কোয়া কাঁচা রসুন খাওয়া শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখার সহজ প্রাকৃতিক উপায়। তবে কারও যদি অতিরিক্ত অম্লতা, আলসার বা রক্ত তরলকারী ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রসুন গ্রহণ করা উচিত


