নির্বাচনের ঠিক মুখে তৈরি হল গুরুতর প্রশাসনিক সংকট। হাজার হাজার ভোটারের নাম এখনও ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় ঝুলে, আর সেই তালিকায় রয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও। নির্বাচন কমিশন দু’দফায় সংশোধিত ও অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেও বহু মানুষ নিজেদের নাম খুঁজে পাননি—ফলে তাঁদের ভোটাধিকার যেমন অনিশ্চিত, তেমনই প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে প্রার্থীপদ।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে ভোটযুদ্ধে নামতে চলা প্রার্থীদের উপর। কমিশনের স্পষ্ট নিয়ম—ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে মনোনয়ন দাখিলই সম্ভব নয়। অর্থাৎ, নাম ‘বিচারাধীন’ থাকলে প্রার্থীপদ কার্যত বাতিলের মুখে। ভোটের আগে এমন পরিস্থিতি রাজনৈতিক মহলে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য-র মাধ্যমে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি পাঠিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তিন পাতার সেই চিঠিতে জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনার আবেদন জানানো হয়েছে। সরাসরি আর্জি জানানো হয়েছে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল-এর কাছে—মনোনয়নের আগেই যেন সমস্ত ‘বিচারাধীন’ নামের নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ভোটের আগে এই অচলাবস্থা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রশ্ন তুলছে না, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। এখন সবার নজর আদালতের দিকে—হস্তক্ষেপে কি কাটবে এই জট, না কি আরও জটিল হবে নির্বাচনের অঙ্ক?


