উত্তরবঙ্গ যখন বন্যায় বিধ্বস্ত, একের পর এক এলাকা জলমগ্ন—এই পরিস্থিতিতে কেন দুর্গা কার্নিভাল বাতিল করা হয়নি, তা নিয়েই সরব হয়েছিল বিরোধীরা। অভিযোগ উঠেছিল, রাজ্যের উৎসব মুখরতা যেন বিপর্যয়ের যন্ত্রণাকে ঢেকে দিচ্ছে। এবার সেই অভিযোগের জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রেড রোডে কার্নিভালের রেশ কাটতে না কাটতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন,
“কার্নিভাল নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে। কার্নিভাল বাংলার গর্ব। এতগুলো ক্লাব, শিল্পী, স্বেচ্ছাসেবক মাসের পর মাস ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিল। ইউনিসেফ-সহ বহু বিদেশি অতিথি উপস্থিত ছিলেন। শেষ মুহূর্তে বাতিল করা সম্ভব ছিল না। তাছাড়া, আমি যদি সেদিন যেতাম, পুলিশ উদ্ধারকাজ ছেড়ে আমাকে সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ত—যা একেবারেই কাম্য নয়।”
শনিবার রাতভর প্রবল বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গ কার্যত বিপর্যস্ত। রবিবার সকাল থেকেই নদীর জল বাড়তে শুরু করে, ডুবে যায় বহু গ্রাম। তবুও নির্ধারিত সময়েই রেড রোডে হয় দুর্গাপুজোর মহা-কার্নিভাল। এরপরই বিরোধীরা সরব হন—“বন্যায় মানুষ কষ্টে, তবু কার্নিভাল কেন?”
দু’দিন উত্তরবঙ্গে থেকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী ফের এই বিতর্কের জবাব দেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “আমি দুর্যোগ নিয়ে রাজনীতি করি না। বিজেপি বরং করে। মহাকুম্ভের দুর্ঘটনা কি ডিজাস্টার ঘোষণা হয়েছে? তখন কেন্দ্রের মুখে এক কথা, আর বাংলার বেলায় অন্য কথা!”
এখানেই থামেননি মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর ওপর হামলা নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। মমতার বক্তব্য, “দাঙ্গা বা বন্যার সময় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, ক্ষিপ্তও হয়। আমিও এমন পরিস্থিতি দেখেছি। তখন শান্ত থাকা-ই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।”
রাজনীতি নয়, মানবিকতার বার্তাতেই যেন উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ের মাঝেও মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে ভেসে উঠল প্রশাসনিক সংযমের সুর।


