দার্জিলিং পাহাড়ে আবারও কেন্দ্র-রাজ্য দ্বন্দ্বের সুর। গোর্খা জনজীবনের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কেন্দ্রের তরফে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি আপত্তি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি পাঠালেন।
সদ্যই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে দেশের প্রাক্তন উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পঙ্কজ কুমার সিংহকে দার্জিলিং, তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর দায়িত্ব, পাহাড়ের বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সংগঠনের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান খোঁজা। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের আগে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনার উদ্যোগ নেয়নি দিল্লি — এমনটাই অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর।
নবান্নের মতে, দার্জিলিং ও সংলগ্ন অঞ্চলের শান্তি, শৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব সম্পূর্ণই রাজ্যের হাতে। ফলে কেন্দ্রের এই একতরফা সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “ত্রিপাক্ষিক আলোচনাই পাহাড় সমস্যার একমাত্র পথ। রাজ্যকে অন্ধকারে রেখে এমন পদক্ষেপ শুধুই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে।”
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি, এই নিয়োগের লক্ষ্য রাজ্য সরকারের কর্তৃত্ব খর্ব করা নয়, বরং পাহাড়ের মানুষদের সঙ্গে সংলাপের নতুন দ্বার খুলে দেওয়া। দীর্ঘদিন ধরেই গোর্খা সংগঠনগুলি পাহাড়ে স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামোর দাবি তুলছে। সেই প্রেক্ষিতে অভিজ্ঞ নিরাপত্তা আধিকারিককে নিয়োগ করা হয়েছে বলে ব্যাখ্যা দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হল। একদিকে বিজেপির শাসিত কেন্দ্র, অন্যদিকে তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য — পাহাড়ের রাজনীতিতে এই টানাপোড়েন আগামী দিনে আরও জটিল রূপ নিতে পারে বলে ধারণা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধ, বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে অবিলম্বে ওই নিয়োগ প্রত্যাহার করা হোক — না হলে পাহাড়ে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


