জাপানের নামী ওকায়ামা বিশ্ববিদ্যালয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে প্রদান করল ডক্টর অব লিটারেচার (D.Litt.) উপাধি। এই সম্মান গ্রহণ করতে মুখ্যমন্ত্রী জাপান যাওয়ার কথা থাকলেও, জরুরি সরকারি দায়িত্বের কারণে তিনি সফরে যেতে পারেননি। তাই ওকায়ামা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক বিশিষ্ট প্রতিনিধি স্বয়ং কলকাতায় এসে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে এই সম্মান তুলে দেন।
এই সম্মান প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই স্বীকৃতি আমার একার নয়, এটা মা-মাটি-মানুষের। তাঁদেরই ভালোবাসা, আশীর্বাদ ও বিশ্বাসই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন ওকায়ামা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ইয়াসুতোমো নাসু, অধ্যাপক মাসাহারু সেনো, অধ্যাপক তোয়োহিকো ওয়াতানাবে, ডাইকী নিশিয়ামা, হিরোশি ফুকুদা (ডিরেক্টর জেনারেল, সিটিজেনস কোঅপারেটিভ ব্যুরো), আয়ুমি ওকাজাকি এবং মাসাকাজু মরিয়াসু-কে। তাঁদের আন্তরিকতা ও সৌজন্যে আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর সত্যম রায়চৌধুরী-কে, যিনি দুই দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে এই নতুন সহযোগিতার সেতুবন্ধন তৈরি করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে বাংলা ও জাপানের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও। তিনি বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, রশবিহারী বসু, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু—এই মহান ব্যক্তিত্বদের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল দুই দেশের বন্ধুত্বের গল্প। সেই সম্পর্ক আজও সমান দৃঢ়।”
হয়
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও জাপান এখন বাংলার ঘনিষ্ঠ সহযোগী। টানা সাত বছর ধরে জাপান অংশীদার দেশ হিসেবে যুক্ত রয়েছে বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটে (BGBS)। মিতসুবিশি, টাটা হিটাচি-র মতো সংস্থা বাংলায় সফলভাবে কাজ করছে। অন্যদিকে, বাংলার একাধিক প্রতিষ্ঠানও নিজেদের উপস্থিতি জানিয়েছেন জাপানে।
এছাড়া, জাপানের এনটিটি ডেটা (NTT Data) ইতিমধ্যেই বাংলার সিলিকন ভ্যালিতে ₹২,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ওয়েবেল ও ফুজিসফট মিলে তৈরি করেছে অত্যাধুনিক সেন্টার অব এক্সেলেন্স, যেখানে মেশিন লার্নিং, 3D প্রিন্টিং, ডিজাইনিং ও সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা চলছে। পাশাপাশি, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (JICA) রাজ্যের বিভিন্ন পরিকাঠামো ও পরিবেশ প্রকল্পে অংশীদার।
শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষা ও সংস্কৃতি রাজনীতির ঊর্ধ্বে। এগুলো মানুষকে কাছাকাছি আনে, হৃদয়ের বন্ধনকে মজবুত করে। আগামী বছর আমি নিজে ওকায়ামা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তাঁদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।”
তিনি আবারও পুনরাবৃত্তি করেন—এই সম্মান বাংলার মা, মাটি ও মানুষের। তাঁদের ভালোবাসাই তাঁর জীবনের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি। ❤️


