বিশ্বকাপজয়ী হয়েই দ্বিতীয়বার কলকাতায় পা রাখলেন লিওনেল মেসি। ২০১১ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে প্রীতি ম্যাচ খেলতে এসেছিলেন তিনি। এবার খেলবেন না, তবু শনিবার সকাল থেকেই মেসি-ম্যানিয়ায় ভাসছে গোটা শহর।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার সফর হলেও কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনায় তার ছাপ স্পষ্ট। ভোরের আলো ফোটার আগেই হায়াত রিজেন্সি হোটেল থেকে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন—সর্বত্র শুধু একটাই নাম, মেসি।
রাত পেরিয়েও অপেক্ষা
নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে, সকাল ৭টার দিকে কলকাতা বিমানবন্দরে নামে মেসির ব্যক্তিগত বিমান। কিন্তু রাত তিনটে থেকেই তাঁকে একঝলক দেখার আশায় বিমানবন্দরে ভিড় জমাতে শুরু করেন ভক্তরা। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই মানুষের ভালোবাসা সঙ্গী করে হোটেলে পৌঁছন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
যুবভারতী জুড়ে উৎসব
সকাল বাড়তেই কানায় কানায় ভর্তি যুবভারতী স্টেডিয়াম। কারও হাতে আর্জেন্টিনার পতাকা, কারও পিঠে মেসির মুখের ট্যাটু। ডিসেম্বরের সকালের শীত উপেক্ষা করে মেসিকে দেখার অপেক্ষায় হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী।
সকাল ১০টায় যুবভারতীতে শুরু হয় ‘গোট কনসার্ট’। জনপ্রিয় গায়ক অনীক ধরের সংগীত পরিবেশনে আরও উন্মাদ হয়ে ওঠে পরিবেশ। মাঠে মেসির প্রবেশের আগেই উৎসবের রংয়ে রাঙা যুবভারতী।
মূর্তি উদ্বোধন ও ভক্তসমাগম
সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে হোটেল থেকেই ভার্চুয়ালি নিজের ৭০ ফুটের মূর্তি উদ্বোধন করেন মেসি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ। উপস্থিত ছিলেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। মূর্তি উদ্বোধনের পর সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ভক্তদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মেসি। সেই ভিড়েই দেখা যায় শাহরুখ খানের পুত্র অ্যাব্রামকে।
মাঠে নামলেন না, তবু হৃদয়ে
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে শুরু হয় দুই অল স্টার্স দলের প্রদর্শনী ম্যাচ। দর্শকাসনে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। মাঠে নামলেন না মেসি, তবু তাঁর নামেই গর্জে উঠল গ্যালারি।
নির্দিষ্ট সময়েই বিদায়
দুপুরে যুবভারতীতে প্রবেশ করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিশোরদের নিয়ে মেসির মাস্টারক্লাস, সংবর্ধনা—সব শেষে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে যুবভারতী ছাড়বেন বিশ্বফুটবলের এই মহাতারকা।
খেললেন না, গোল করলেন না—তবু কয়েক ঘণ্টার উপস্থিতিতেই প্রমাণ করে দিলেন, কলকাতার সঙ্গে মেসির সম্পর্কটা শুধু ফুটবলের নয়, আবেগের।


