২০১১ সালে বাংলা মাত্র ৪ হাজার ৪৭২ টন দুধ উৎপাদন করেছিল। আর আজ, ৭ হাজার ৬৫০ টন! কল্পনাও করা কঠিন, কিন্তু বাংলার গৃহপালিত প্রাণী ও প্রাণী বিজ্ঞানীরা মিলে এটাই করে দেখালেন। তেলঙ্গানা, মেঘালয়, সিকিম, ওড়িশাকে ছাড়িয়ে দুধ উৎপাদনে বাংলা এখন দেশের সেরা দিকগুলোর মধ্যে।
এই অগ্রগতির পেছনে রয়েছে রাজ্যের প্রাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরন্তর গবেষণা। সম্প্রতি সেই গবেষণার স্বীকৃতি মিলেছে ন্যাশনাল আকাডেমি অফ ভেটেরিনারি সায়েন্সের সম্মেলনে, যা অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিহারের প্রাণী বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল (অ্যানিম্যাল সায়েন্স) ড. রাঘবেন্দ্র ভট্ট।
সম্মেলনে শুধু গবেষণা নয়, ভেটেরিনারি শিক্ষার নতুন পরিকল্পনাও আলোচনায় এসেছে। জানা গেছে, দেশে ভেটেরিনারি সায়েন্সে স্নাতক হতে লাগে সাড়ে পাঁচ বছর। কিন্তু স্নাতকোত্তর পরীক্ষার সুযোগ পেতে ওই বছর বসতে পারছে না ছাত্ররা। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে স্নাতক স্তরের পাঠ্যক্রম পাঁচ বছরে শেষ করার প্রস্তাব এসেছে।
তথ্যগুলো আরও চমকপ্রদ। ২০২৪-২৫ সালে ভারতের মোট দুধ উৎপাদন প্রায় ২৪৭.৮৭ মিলিয়ন টন। এর ৪৩ শতাংশ আসে মোষের দুধ থেকে, আর বিশ্ব মোষের দুধের ৭৬ শতাংশই আসে ভারতীয় মহিষ থেকে। আর ভাবুন, দেশ দুধ উৎপাদনে এমনভাবে এগিয়ে গেছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিহারের প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য মন্ত্রী সুরেন্দ্র মেহতা, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন সংস্থার নেতারা। ভেটেরিনারি শিক্ষায় অবদানের জন্য ২০ জনকে ফেলোশিপ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে অন্যতম রাজ্যের প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক সিদ্ধার্থ জোয়ারদার।
বাংলার দুধ উৎপাদন ও প্রাণীচিকিৎসা গবেষণা—এখানেই দেখায় কল্পনাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম আর বিজ্ঞান মিলিত হলে কেমন এক চমক তৈরি হতে পারে।
বাংলার দুধ বিপ্লব: গবেষণা ও মহিষের জাদু


