পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্-বিধানসভা নির্বাচনের আবহে রাজনীতির আকাশে নতুন করে উড়ছে এক অদ্ভুত প্রজাতির পাখি—নাম তার দ্বৈত নাগরিকত্ব। SIR করতে গিয়ে প্রশাসনের খাতায় নাকি একের পর এক ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে আসছে। তালিকায় রয়েছেন এমন কিছু মানুষ, যাঁরা কাগজে-কলমে কখনো বাংলাদেশের, আবার প্রয়োজনে ভারতের নাগরিক!
উত্তর ২৪ পরগনার হাবরা থানার মছলন্দপুর ২ পঞ্চায়েতের সুকান্তপল্লী এলাকায় বসবাসকারী উত্তম বালাকে ঘিরে এখন তুমুল রাজনৈতিক চর্চা। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি শুধু পঞ্চায়েত সদস্যই নন, পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ এবং শাসকদলের “অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ” নেতা। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এলাকায় মারধর থেকে জমি দখল—সব অভিযোগই নাকি তাঁর নামের সঙ্গে ঘোরাফেরা করে। কিন্তু হাবরা থানায় সেই অভিযোগ পৌঁছালে পুলিশ নাকি হঠাৎ করেই শ্রবণ শক্তি হারায় ।
অভিযোগকারীদের মতে, উত্তম বালার শিকড় নাকি বাংলাদেশের ফরিদপুরের ডোমরাকান্ধীতে। অথচ তিনি ও তাঁর দুই ভাই সুকান্তপল্লীর যে বাড়িতে থাকেন, তার দাগ নম্বর ২০৬,JL১০৬ -সবই একেবারে ভারতীয় ছাঁদে সাজানো। জমির মালিক দুলাল মণ্ডল, যিনি আবার অভিযোগ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের অধীনে প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক এবং উত্তমদের ভগ্নিপতি।
এখানেই প্রশ্ন ওঠে—যদি জমির মালিক বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন, তবে ভারতীয় জমিতে বাড়ি তৈরি হলো কীভাবে? আর তৃণমূল কংগ্রেসের এক পঞ্চায়েত সদস্য কীভাবে এমন বাড়িতে বসবাস করেন—এই প্রশ্ন কি শুধুই বিরোধীদের কৌতূহল?
আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, ২০০৬ সালে ভারতে আসার পর উত্তম বালা ও তাঁর ভাই নাকি এ রাজ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকরিও পেয়েছেন! যদিও স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান এই প্রসঙ্গে “নো কমেন্ট”-এর আশ্রয় নিয়েছেন—যা বাংলার রাজনীতিতে সবচেয়ে পরিচিত উত্তর।
এই বিষয়ে এক ব্যক্তি জেলা শাসককে ই-মেল করে বিস্তারিত জানিয়েছেন। এখন দেখার, ভোটের আগে প্রশাসন নড়ে বসে নাকি এই ফাইলও অন্যান্য “সংবেদনশীল ফাইল”-এর মতো আলমারির গভীরে ঢুকে পড়ে।
কারণ বাংলার রাজনীতিতে প্রশ্ন তোলা যত সহজ, উত্তর পাওয়া ততটাই কঠিন। আর ভোটের আগে এই ধরনের “নাগরিকত্ব-নাটক” যে আরও জমবে, তা বলাই বাহুল্য।



