দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে সাগরাঞ্চলে। অবশেষে মুড়িগঙ্গা নদীর উপর নির্মাণের পথে বহু চর্চিত গঙ্গাসাগর সেতু। প্রায় ৪.৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের এই সেতুর শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নের পথে এই প্রকল্পকে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
সেতু নির্মিত হলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে কচুবেড়িয়া। এর ফলে গঙ্গাসাগরমুখী যাত্রাপথে আর ভরসা রাখতে হবে না ঝুঁকিপূর্ণ ভেসেল বা ফেরির উপর। বছরের বিভিন্ন সময়, বিশেষ করে গঙ্গাসাগর মেলার সময় অতিরিক্ত ভিড় ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে যাতায়াত হয়ে উঠত চরম দুর্ভোগের। নতুন সেতু সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সেতু চালু হলে শুধু পূণ্যার্থী বা পর্যটকরাই নন, সাগরদ্বীপ ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারাও উপকৃত হবেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রেও যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক বেশি মজবুত হবে। স্থানীয় মানুষদের মতে, এতদিন মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্নতার যে অনুভূতি ছিল, তা অনেকটাই কাটবে এই সেতুর মাধ্যমে।
একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গাসাগর সেতুকে কেন্দ্র করে নন্দীবন্দর গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কর্মসংস্থান, বাণিজ্য এবং পর্যটনে নতুন গতি আসতে পারে গোটা সাগরাঞ্চলে। রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকার উন্নয়নে এই প্রকল্পকে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে বলা যায়, গঙ্গাসাগর সেতু শুধু একটি সেতু নয়, বরং সাগরাঞ্চলের উন্নয়ন ও যাতায়াতে এক নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে।


