ভেনেজুয়েলা কি কার্যত মার্কিন দখলে? এমনই প্রশ্নে তোলপাড় আন্তর্জাতিক মহল। সোমবার সকালে বিশ্বখ্যাত তথ্যভাণ্ডার উইকিপিডিয়ায় ভেনেজুয়েলার কার্যকরী প্রেসিডেন্ট হিসেবে আচমকাই উঠে আসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম। বিষয়টি ঘিরে মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হয় জোর চর্চা।
ভারতীয় সময় সোমবার সকালে নিজের সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করেন ট্রাম্প। স্ক্রিনশটে দেখা যায়, উইকিপিডিয়ায় তাঁর অফিশিয়াল পোর্ট্রেটের নীচে লেখা—‘ভেনেজুয়েলার অ্যাক্টিং প্রেসিডেন্ট’। যদিও কিছু সময়ের মধ্যেই উইকিপিডিয়া থেকে সেই তথ্য সরিয়ে নেওয়া হয়, ততক্ষণে ট্রাম্পের পোস্ট ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডরিগেজ আদতে ওয়াশিংটনের নির্দেশেই দেশ পরিচালনা করছেন। সরাসরি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের নাম উঠে আসা সেই ধারণাকেই আরও জোরালো করেছে বলে মত তাঁদের।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি গভীর রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মার্কিন সেনার অভিযানের খবর সামনে আসে। মাত্র আধ ঘণ্টার অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে মার্কিন সেনা। পরে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে কারাবন্দি করা হয়েছে বলে দাবি। এর পরেই ডেলসি রডরিগেজ ভেনেজুয়েলার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন।
তবে অভিযোগ, তেল বাণিজ্য থেকে শুরু করে বিদেশনীতি—কারাকাসের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই বকলমে নিয়ন্ত্রণ করছে ওয়াশিংটন। মাদুরোকে অপহরণের পর ট্রাম্প নিজেই মন্তব্য করেছিলেন, এবার ভেনেজুয়েলা পরিচালিত হবে আমেরিকার তত্ত্বাবধানে।
এর মধ্যেই রবিবার সোশাল মিডিয়ায় এক নেটিজেনের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক ছড়ায়। সেখানে বলা হয়, “কিউবার প্রেসিডেন্ট হতে পারেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও।” সেই মন্তব্যে ট্রাম্পের জবাব ছিল, “তা হলে তো ভালোই হবে।” ঠিক তার পরের দিনই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের নাম উইকিপিডিয়ায় উঠে আসায় জল্পনা আরও বেড়েছে।
তাহলে কি একে একে ভেনেজুয়েলা, কিউবার মতো দেশগুলিতে উপনিবেশ বিস্তারের পথে হাঁটছেন ট্রাম্প? কেবল অর্থনৈতিক প্রভাব নয়, সরাসরি দেশ দখলই কি লক্ষ্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের? ট্রাম্পের এই সোশাল মিডিয়া পোস্ট কি আদতে ভেনেজুয়েলার উপর মার্কিন ‘দখলদারি’রই প্রকাশ্য সিলমোহর—সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বিশ্ব রাজনীতির অন্দরে।


