ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে বারাসত থেকে বড় ইঙ্গিত। টানা তিনবারের বিধায়ক, তৃণমূলের তারকা মুখ চিরঞ্জিত চক্রবর্তী জানিয়ে দিলেন—আর প্রার্থী হতে আগ্রহী নন তিনি। কারণ একটাই, নিজের ভাষায় বললে, এনার্জি আর আগের মতো নেই।
শনিবার বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চিরঞ্জিত স্পষ্ট করে বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে ক্ষমতা একসময় ছিল, তা কমেছে। রাজনীতি যে পরিমাণ পরিশ্রমের জায়গা, তা এখন আর পুরোপুরি দিতে পারছেন না বলেই তাঁর মত। সেই কারণেই ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোই তাঁর কাছে যুক্তিযুক্ত বলে মনে হচ্ছে।
২০১১ সালে রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের সময় থেকেই বারাসতের মুখ তিনি। সিপিএম প্রার্থীদের হারিয়ে প্রথমবার বিধায়ক হওয়া, তারপর ২০১৬ ও ২০২১—তিনবারই বারাসতবাসীর আস্থা পেয়েছেন চিরঞ্জিত। যদিও এই প্রথম নয়, অতীতেও একাধিকবার ভোটে না দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। কিন্তু প্রতিবারই দলনেত্রীর ভরসায় প্রার্থী হয়ে জয় এসেছে।
এবারও অবশ্য পুরো দরজা বন্ধ করেননি। চিরঞ্জিত জানিয়ে দিয়েছেন, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি তাঁকে প্রার্থী করতে চান, সেক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত বদলাতেও হতে পারে। দলনেত্রীর দূরদর্শিতার উপর আস্থা রেখেই তাঁর মন্তব্য—কাকে কোথায় কতটা প্রয়োজন, তা সবচেয়ে ভালো বোঝেন মমতাই।
সিনেজগত থেকে রাজনীতিতে আসা চিরঞ্জিতের ক্ষেত্রে বয়সের সঙ্গে কাজের ধরন বদলাচ্ছে—সেই বাস্তবতা তিনি মেনে নিচ্ছেন। সিনেমায় যেমন আগের মতো ফাইট করতে পারছেন না, তেমনই রাজনীতির ময়দানে দৌড়ঝাঁপও কঠিন হয়ে উঠছে। সেই জায়গা থেকেই ছাব্বিশের ভোটে তাঁর অনিচ্ছার বার্তা।
সব মিলিয়ে এখন প্রশ্ন একটাই—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি বারাসতে চিরঞ্জিতের বিকল্প খুঁজবেন, না কি শেষ পর্যন্ত দলনেত্রীর ডাকেই ফের প্রার্থী হবেন তারকা বিধায়ক?
ছাব্বিশে না-ও লড়তে পারেন চিরঞ্জিত, ‘এনার্জি কমেছে’ বলেই ইঙ্গিত বারাসতের বিধায়কের


