দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, ভারত-বিরোধী সুর এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর নতুন করে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে। ক্ষমতায় আসতে চলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছে, তারা প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করতে আগ্রহী।
ফল ঘোষণার পরই কূটনৈতিক সৌজন্যের ছবি সামনে আসে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফোন করে অভিনন্দন জানান বিএনপি চেয়ারম্যান ও সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। শুধু আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা নয়, ভবিষ্যৎ সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তাও দেন তিনি। পাল্টা ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপি নেতৃত্বও ইঙ্গিত দেয়, অতীতের ভুল বোঝাবুঝি পেরিয়ে সহযোগিতার পথে হাঁটতেই চায় তারা। দলের শীর্ষ নেতা নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার দিকেই গুরুত্ব দেবে নতুন সরকার।
এই বার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে শীতলতা স্পষ্ট হয়েছিল। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা মহম্মদ ইউনুস–এর আমলে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়। ভারত একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল, যার জেরে কূটনৈতিক অস্বস্তিও তৈরি হয়েছিল।
নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে তাই নজর এখন একটাই প্রশ্নে—বাংলাদেশ কি আবার গণতন্ত্রের স্থিতিশীল পথে ফিরবে এবং দিল্লির সঙ্গে অতীতের উষ্ণ সম্পর্ক পুনর্গঠন করবে? দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে বাংলাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কের উষ্ণতা শুধু দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রভাব ফেলবে গোটা অঞ্চলের রাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও। এখন অপেক্ষা, নির্বাচনী বার্তার পর বাস্তবে কত দ্রুত বদল আসে দুই দেশের সম্পর্কে।
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন অধ্যায়? বিএনপির জয়ের পর উষ্ণ বার্তা মোদি-তারেক ফোনালাপে


