বয়কটের হুমকি, রাজনৈতিক টানাপোড়েন, চড়া উত্তেজনা—সব কিছুর আবহ নিয়েই রবিবার মাঠে নেমেছিল ভারত ও পাকিস্তান। কিন্তু ম্যাচের ৪০ ওভার শেষে বোঝা গেল, এত নাটকের পরেও ফলাফল আগের মতোই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়াল ৮-১। ‘মহারণ’ শব্দটা রয়ে গেল, কিন্তু লড়াইটা আর সেই আগুন ছড়াতে পারল না।
টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করে ভারত তোলে ১৭৫/৭। শুরুতে খানিকটা মাপা ব্যাটিং হলেও মাঝের ওভারে ম্যাচের গতি ঘুরিয়ে দেন ঈশান কিশান। তাঁর ইনিংস শুধু রানসংখ্যা বাড়ায়নি, পাকিস্তানি বোলারদের উপর চাপও বাড়িয়েছে। শেষের দিকে দ্রুত রান তুলে স্কোরবোর্ডে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি গড়ে তোলে ভারত।
১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের ব্যাটিং শুরু থেকেই অনিশ্চিত। পাওয়ারপ্লে কাটতেই স্পষ্ট হয়ে যায়, রান তোলার ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে না তারা। এক প্রান্তে উইকেট পড়ছে, অন্য প্রান্তে বাড়ছে ডট বলের সংখ্যা। ভারতীয় বোলারদের নিখুঁত লাইন-লেংথ ও আগ্রাসী ফিল্ডিং পাকিস্তানকে ম্যাচে ফিরতেই দেয়নি। শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস। শেষদিকে শাহিন আফ্রিদি কিছুটা হাত খুলে না খেললে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।
অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব-এর বোলিং পরিবর্তন ও আক্রমণাত্মক ফিল্ড সেটিং ম্যাচের মোড় ঘোরাতে সাহায্য করে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই ব্যবধান তৈরি করে দেয়।
ভারত-পাকিস্তান মানেই আবেগের বিস্ফোরণ। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, অন্তত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই সমতা আর নেই। রবিবারের ম্যাচ আরও একবার প্রমাণ করল—চাপ, ইতিহাস, বিতর্ক সব পেরিয়েও মাঠে শেষ কথা বলে পারফরম্যান্সই।


