পূর্ব ভারতে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল কলকাতার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। প্রথমবার মৃত ব্যক্তির হাড় প্রতিস্থাপন করা হল জীবিত রোগীর শরীরে। জটিল এই অস্ত্রোপচারের ফলে পা বাদ যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেলেন এক যুবক।
উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা রিজাউদ্দিন মণ্ডলের জীবনে দুর্যোগ নেমে আসে ২০২৩ সালে। ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় লরির ধাক্কায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাঁর বাঁ পা। ফিমার বোন সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়, ছিঁড়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ লিগামেন্টও। পরপর দু’বার অস্ত্রোপচার হলেও অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। পরে হাঁটুর নীচ থেকে হাড়ের টুকরো ও টেন্ডন নিয়ে লিগামেন্ট পুনর্গঠনের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তাতেও সাফল্য মেলেনি। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে চিকিৎসকদের সামনে পা বাদ দেওয়া ছাড়া আর কোনও পথ খোলা থাকেনি।
এই সঙ্কটময় মুহূর্তেই এগিয়ে আসে আর জি কর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চেন্নাই থেকে এক মৃত ব্যক্তির সংরক্ষিত হাড় সংগ্রহ করে আনে। রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের উদ্যোগে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা ব্যয়ে সেই হাড় আনা হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি সম্পন্ন হয় বহু প্রতীক্ষিত ও অত্যন্ত জটিল অস্ত্রোপচার। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয় এই সার্জারি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে এবং প্রতিস্থাপিত হাড় শরীরে সাড়া দিচ্ছে। রিজাউদ্দিন বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও তাঁকে এখনও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই সাফল্য শুধু একটি পা বাঁচানোর গল্প নয়, বরং পূর্ব ভারতে অঙ্গ প্রতিস্থাপন ও হাড় ব্যাংক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলেই মনে করছে স্বাস্থ্য মহল।
মৃতের হাড়ে নতুন জীবন, আর জি করে নজির গড়ে পা বাঁচালেন চিকিৎসকেরা


