পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে ফের তীব্র বিতর্ক তৈরি হল। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee এক বিস্ফোরক টুইটে দাবি করেছেন, ইসিআইনেট পোর্টালে এসআইআর সংক্রান্ত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন না ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসাররা (ইআরও)। তাঁর অভিযোগ, এটি সরাসরি “ট্রিপল ভায়োলেশন” বা তিন দফা আইনি লঙ্ঘনের সামিল, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর উপর গুরুতর আঘাত।
অভিষেকের বক্তব্য, প্রথমত এটি জনগণের প্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০–এর ১৩বি ও ১৩সি ধারার পরিপন্থী। ওই ধারাগুলিতে স্পষ্ট বলা আছে, ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও সংশোধনের দায়িত্ব ইআরওদের এবং সহকারী ইআরওরা তাঁদের নিয়ন্ত্রণাধীন থেকে কাজ করবেন। সেখানে ইআরওদের কার্যত অন্ধকারে রেখে এআরওদের অগ্রগতি চললে তা আইনের উদ্দেশ্যকেই খর্ব করে বলে দাবি তাঁর।
দ্বিতীয়ত, চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি এবং ২০ ফেব্রুয়ারির সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর
দাবি, শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরওরাই এবং যাঁদের নোটিস দেওয়া হয়েছে, তাঁদের জমা দেওয়া নথি ইআরওদের দ্বারা আধা-বিচারিক প্রক্রিয়ায় খতিয়ে দেখা আবশ্যক। সেই প্রেক্ষিতে ইআরওদের নজরদারি ক্ষমতা খর্ব হওয়া আদালতের নির্দেশেরও লঙ্ঘন বলে অভিযোগ তৃণমূল নেতার।
তৃতীয়ত, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব নির্দেশিকা—অর্ডার নং ২৩/২০২৫-ইআরএস (ভলিউম II), ২৪ জুন ২০২৫—উদ্ধৃত করে অভিষেক বলেন, প্রত্যেক বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকবেন যাতে কোনও যোগ্য নাগরিক বাদ না পড়েন এবং কোনও অযোগ্য ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত না হন। এই কাঠামো ভেঙে দিলে স্বেচ্ছাচারী ও বেআইনি ভোটার বাদ দেওয়ার আশঙ্কা বাড়বে বলেই দাবি তাঁর।
এখানেই থেমে থাকেননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিষয়টি জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে তোলা হলেও সেখান থেকে সন্তোষজনক সাড়া মেলেনি। বরং গোটা বিষয়টিকে ‘বাবু কালচার’-এর নিদর্শন বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, কেউই বাংলার ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে ছেলেখেলা করতে পারে না। যাঁরা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছেন, তাঁদের আইনি ও জনতার আদালতে জবাবদিহি করতে হবে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।


