EXCLUSIVE • শ্রাবণী পাল
কথায় বলে, কুম্ভ মেলায় হারিয়ে যাওয়া ভাই-বোন। এবার সত্যি সত্যিই একাধিক প্রাণ হারিয়ে গেল প্রয়াগরাজের কুম্ভ মেলায়। পুণ্যলাভের আশায় মৌনী আমাবস্যায় মহাকুম্ভে প্রিয়জন হারানো অন্ধকার। মহাকুম্ভের আয়োজনে খরচ করা হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কিন্তু ভক্তদের নিরাপত্তা কোথায়? ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান করতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে থরে থরে মৃতদেহ। জখম শতাধিক। মর্গের সামনে স্বজন হারানো কান্না। কোটি টাকার মহাকুম্ভে সস্তা হয়ে গেল আমজনতার প্রাণ। প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বুধবার রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে পদপিষ্ট হয়ে। একাধিক সূত্রে দাবি, সঠিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হচ্ছে না। যে পরিমাণে মানুষ গার্ডরেল ভেঙেছে, হুড়োহুড়ি করেছে এবং পদপিষ্ট হয়েছে তাতে এই সংখ্যা কোনওভাবেই ৩০ হওয়া সম্ভব নয়। ২০২৫ সালের কুম্ভ মেলায়, সামাজিক মাধ্যমে ভিআইপিদের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে। ভিআইপিদের ব্যবস্থাপনা করতে গিয়েই আমজনতার প্রাণ সস্তা করে দিল না তো প্রশাসন? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, গঙ্গাসাগর এবং মহাকুম্ভের ব্যবস্থাপনার তুলনা টেনে পোস্ট করেছেন। কিন্তু খতিয়ান বলছে, গঙ্গাসাগরে এবছরের প্রত্যাশিত ভিড় ১ কোটি ১০ লক্ষ। পাশাপাশি মহাকুম্ভে প্রত্যাশিত ১০ কোটি, যা পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যার প্রায় সমান। ফলে ভিড়ের কোনও তুলনা টানা যায় না বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল-মহল। তাহলে মহাকুম্ভের মৃত্যু নিয়ে গঙ্গাসাগর কি রাজনীতি নয়?খুব স্বাভাবিকভাবেই যোগী প্রশাসনের ব্যবস্থাপনার দিকে আঙ্গুল তুলেছেন কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা। ঠিক যেভাবে পানিহাটির চিঁড়ের মেলার মৃত্যুতে রাজনীতি খুঁজে পেয়েছিল বিজেপি। যদিও কুম্ভ মেলার এই পদপিষ্ট হওয়ার স্মৃতি আজকের নয়। ১৯৫৪ সালে পদপিষ্ট হয়ে এই মৌনী অমাবস্যাতেই শ’য়ে শ’য়ে মৃত্যু হয়েছিল। বিরোধীরা বলেন মৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছিল। এই মৃত্যু নিয়ে নেহরুকে ২০১৯ সালে তুলোধোনা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। ২০২৫ সালে তাঁর দলের সরকারের আমলেই মৃত্যুমিছিল ঝাঁজিয়ে তুললো গোটা দেশের রাজনীতি। কিন্তু স্বজনহারা চোখের জলের দাম কোনও দাঁড়িপাল্লায় বোধ হয় ৭০ বছর পরও মাপা সম্ভব হলো না।


