গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাতের মধ্যে এক বড় ধরনের মোড় নিল ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেটানিয়াহুর সাম্প্রতিক ঘোষণায়। তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েলের একটি সুনির্দিষ্ট বিমান হামলায় হামাসের গাজা শাখার প্রধান মুহাম্মদ সিনওয়ার নিহত হয়েছেন। এই ঘটনাকে ইসরায়েল অভিহিত করেছে ‘হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক সাফল্য’ হিসেবে।
প্রধানমন্ত্রী নেটানিয়াহু বলেন, “গাজায় মুহাম্মদ সিনওয়ার আর নেই। আমাদের সেনারা সাহসিকতার সঙ্গে তাদের লক্ষ্যবস্তু নির্দিষ্ট করেছে এবং হামাসের কমান্ড সেন্টারে একটি সফল হামলা চালিয়েছে।” ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর তথ্যমতে, এই হামলা চালানো হয় খান ইউনুসের ইউরোপিয়ান হাসপাতালের নিচে অবস্থিত একটি গোপন হামাস টানেল কমপ্লেক্সে। সেখানে সিনওয়ার তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীসহ অবস্থান করছিলেন। হামলার পর টানেল ধসে পড়ে এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে সিনওয়ারসহ প্রায় দশজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন ছিলেন হামাসের উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার।
মুহাম্মদ সিনওয়ার হামাসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অন্যতম এবং তার বড় ভাই ইয়াহিয়া সিনওয়ারের মৃত্যুর পর গত বছরের অক্টোবরে তিনি গাজার সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। ২০০৬ সালে ইসরায়েলি সেনা গিলাদ শালিতকে অপহরণেও তার সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল বলে দাবি করে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা। গত কয়েক মাস ধরেই মুহাম্মদ সিনওয়ার ছিলেন ইসরায়েলের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকার শীর্ষে।
হামাস এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সিনওয়ারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এই তথ্য সত্য হয়, তবে এটি হামাসের জন্য একটি বড় ধাক্কা এবং সংগঠনের ভেতরে নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হতে পারে।
এই ঘটনা ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন গাজা ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হঠাৎ ইসরায়েল আক্রমণের পর থেকে এই সংঘাত শুরু হয়, যেখানে প্রায় ১,২০০ ইসরায়েলি নিহত হন এবং ২৫০ জনের বেশি নাগরিক জিম্মি করা হয়। এরপর থেকেই ইসরায়েল গাজায় একের পর এক সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে বহু মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা গাজায় চলমান মানবিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, ইসরায়েল বলছে—তাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র হামাসকে নির্মূল করা এবং নিজেদের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
এখনো হামাসের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া না আসলেও পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুহাম্মদ সিনওয়ারের মৃত্যু সংঘর্ষের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে কিনা, তা সময়ই বলে দেবে।


