বিশ্বে প্রথম কৃত্রিম গর্ভাশয় তৈরি জাপানে! মা’র শরীর ছাড়াই বেড়ে উঠছে ভ্রূণ

Spread the love

এক যুগান্তকারী আবিষ্কার! মায়ের গর্ভের বাইরেও এবার বেড়ে উঠতে পারবে ভ্রূণ। সম্প্রতি জাপানের বিজ্ঞানীরা সফলভাবে তৈরি করেছেন বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ কৃত্রিম গর্ভাশয়। এই প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে চলেছে নবজাতক চিকিৎসা ও প্রসূতি বিজ্ঞানে।

জাপানের তোহোকু বিশ্ববিদ্যালয়, জুন্তেনদো বিশ্ববিদ্যালয় এবং অস্ট্রেলিয়ার কিছু গবেষক মিলে তৈরি করেছেন এই “EVE Therapy” নামের প্রযুক্তি। এটি এক ধরনের কৃত্রিম জৈব ব্যাগ, যার মধ্যে থাকে অ্যামনিওটিক ফ্লুইড, অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ভ্রূণের নাড়ির মতো সংযোগ। উদ্দেশ্য একটাই—মায়ের গর্ভের পরিবেশকে বাইরে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা।

গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ছাগল ও ভেড়ার মতো স্তন্যপায়ী প্রাণীর ভ্রূণকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত সুস্থভাবে রাখা গিয়েছে। এমনকি, ২৪ সপ্তাহের সময় জন্ম নেওয়া সদ্যজাতদের ক্ষেত্রেও এটি ভবিষ্যতে লাইফ-সেভার হয়ে উঠতে পারে বলে দাবি গবেষকদের।

তবে এখনও এই প্রযুক্তি মানব ভ্রূণের উপর প্রয়োগের পর্যায়ে যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটির নিরাপত্তা ও নৈতিক দিক বিবেচনা করে সম্পূর্ণ ব্যবহারে যেতে আরও কয়েক বছর লাগবে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?
বর্তমানে ২৪ সপ্তাহ বা তার আগে জন্ম নেওয়া শিশুরা চরম বিপদের মধ্যে থাকে। তাদের ফুসফুস, লিভার, মস্তিষ্ক ঠিকমতো পরিপূর্ণ হয় না। এই অবস্থায় EVE Therapy প্রযুক্তি তাদের সুস্থভাবে পরিপূর্ণভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে পারে।

তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গেই উঠছে নৈতিক প্রশ্নও। কে হবে শিশুর আইনি অভিভাবক? এই প্রযুক্তি কি ভবিষ্যতে মাতৃত্বের ধারণাকে বদলে দেবে?

এই প্রশ্নগুলির উত্তর সময়ই দেবে। তবে এখনই স্পষ্ট—জাপানের এই কৃত্রিম গর্ভাশয় আবিষ্কার এক নতুন যুগের সূচনা করে দিল মানব প্রজননের জগতে।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *