২১ জুলাই ধর্মতলার মঞ্চ থেকে জনমতের ঢেউ তুলে ফের একবার ‘ঘর’-এর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর তার পরদিনই নবান্নে বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করলেন নতুন কর্মসূচি— ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’। উদ্দেশ্য একটাই— ভোটের মুখে বুথ ধরে ধরে মানুষের দরজায় পৌঁছনো।
এই প্রকল্পকে ‘ডোর টু ডোর গভর্নেন্স’ বলেই ব্যাখ্যা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। সরকারি পরিষেবা ও সমস্যার সমাধান এবার হবে একেবারে বুথভিত্তিক শিবিরে। প্রশাসনও কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে। মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলাশাসকদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন— ক্যাম্পে সরকারি আধিকারিকের পাশাপাশি থাকতে হবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকেও।
নবান্নের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী—
২ অগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে শিবির, চলবে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত।
১৫ নভেম্বরের মধ্যে সমস্ত প্রকল্প বাছাই শেষ।
১৫ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু।
নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক তৎপরতা ততই চওড়া হচ্ছে। নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্যের প্রায় ৮০ হাজার বুথকে ভিত্তি করে গড়ে উঠবে ২৭ হাজার ক্যাম্প। তিনটি বুথ মিলে একেকটি শিবির। প্রতিটি ক্যাম্পে থাকবে মানুষের সমস্যা শোনার ব্যবস্থা, আলোচনা, এবং পরে সরেজমিনে তদন্ত। এরপর নির্ধারিত হবে— কোন প্রকল্প কতটা জরুরি এবং কীভাবে তা দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।
সরকারি সূত্র বলছে, এই কর্মসূচি শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজিও। মানুষের দরজায় পৌঁছে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে শাসক দল মানুষের মন পেতে চাইছে। ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে মনিটরিং কমিটি গঠনের— যাতে সময়মতো শিবির, রিপোর্টিং এবং কাজে দেরি না হয়।
এক নবান্ন আধিকারিকের কথায়, “এটা আর পাঁচটা প্রকল্প নয়, এটা একটা ভোটের মেশিন। মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর টেবিলে আসবে, এটা ভাবাই যায়নি আগে।”
মাঠে নামছে প্রশাসন, লক্ষ্যে মমতার ভোট-ক্যাম্পেইন। ‘দুয়ারে সরকার’-এর পর এ বার বুথে সরকার।


