ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর পরিচালনা ধাপে ধাপে বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ফের জল্পনা। আগামী ৩১ জুলাই মেট্রোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়ে দরপত্র খোলা হবে। সূত্রের খবর, একটি বেসরকারি সংস্থাকে কম্প্রিহেনসিভ ম্যানুয়াল মেন্টেনেন্স কন্ট্রাক্ট (CMMC)-এর দায়িত্ব দেওয়া হবে। তবে মেট্রো কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, পুরো প্রকল্প বেসরকারিকরণের কোনও সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
এই পরিস্থিতি ঘিরে ফের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলির মধ্যে। প্রগতিশীল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সহ-সভাপতি শুভাশিস সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে আমরা বরাবর আন্দোলনে আছি। মেট্রো রেলকে কোনওভাবেই বেসরকারি হাতে তুলে দিতে দেব না।’’
বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনগুলির পাশাপাশি ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘রেলকে পরিকল্পিতভাবে বিপর্যস্ত করছে বিজেপি। মেট্রো বেসরকারিকরণের মাধ্যমে রেলকে ধ্বংস করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী ও আমাদের দল বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।’’
প্রসঙ্গত, দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন আগেও এই প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছিল। এবারও তারা অন্যতম দরপত্রদাতা। DMRC লাভ-ক্ষতির ভিত্তিতে দেশে-বিদেশে মেট্রো অপারেশন করে থাকে। কলকাতা মেট্রোতে কর্মী সংকট এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পরিষেবায় ঘাটতি দেখা দেওয়ায়, এই উদ্যোগের কথা ভাবা হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে বেসরকারিকরণ প্রসঙ্গে আগেও বিতর্ক ওঠায় একটি শীর্ষ আধিকারিককে বদলি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
সব মিলিয়ে, বেসরকারিকরণের আশঙ্কায় ফের উত্তাল ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো। রক্ষণাবেক্ষণের পর যদি অপারেশনও বেসরকারি সংস্থার হাতে যায়, তাহলে ভাড়াবৃদ্ধির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন অনেকেই।


