তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি ভাষাভাষী মানুষদের উপর একাধিক নির্যাতনের অভিযোগ এনেছে। দলটির দাবি, বাঙালি শ্রমিকদের উপর লাগাতার নিপীড়ন চালানো হচ্ছে, তাদের বাংলাদেশি সন্দেহে পুশব্যাক (জোর করে সীমান্তের বাইরে পাঠানোর) চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলা ভাষা ও বাঙালির অস্তিত্বকে আঘাত করা হচ্ছে বিভিন্নভাবে।
এই সমস্ত ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে ‘ভাষা আন্দোলন’ শুরু করেছে তৃণমূল। শুধু রাজ্যেই নয়, জাতীয় স্তরেও এই ইস্যুকে তুলে ধরার পরিকল্পনা নিয়েছে দলটি। এর অংশ হিসেবে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি সংসদে বাংলায় বক্তব্য রাখবেন। যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষও একই ইস্যুতে বাংলাতেই বক্তব্য রাখবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে অভিষেক বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিহারে এসআইআর (Special Intensive Revision)-এর সময় এমন একটি ঘটনাও ঘটেছে যেখানে একজন মানুষের নামে শংসাপত্রে লেখা হয়েছে “ডগবাবু”, এবং তাতে একটি কুকুরের ছবি রয়েছে। এই ঘটনাকে চরম অব্যবস্থার নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরেছে তৃণমূল।
অভিষেকের আরও দাবি, বাংলায় বিজেপি প্রতিটি নির্বাচনে হারে, তাই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হারিয়ে যাওয়া এই দল এখন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। নির্বাচন কমিশনকেও বিজেপি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এই সবকিছু মিলিয়ে তৃণমূল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বাঙালি ও বাংলা ভাষার সম্মান রক্ষায় তারা কোনও আপস করবে না। সংসদের ভিতরে এবং বাইরে, সর্বত্র এই বিষয়ে জোরালো প্রতিবাদ চলবে। সোমবার সংসদের বাইরে এসআইআর-এর বিরোধিতায় তৃণমূলের পাশাপাশি অন্যান্য বিরোধী দলগুলিকেও একসঙ্গে প্রতিবাদে শামিল হতে দেখা গেছে। ডেরেক ও’ ব্রায়েন-সহ তৃণমূলের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও এতে অংশ নিয়েছেন।


