যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সই করা নতুন এক্সিকিউটিভ অর্ডারে পাকিস্তানের উপর চাপানো শুল্ক কমানো হলেও ভারতের ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ শুল্ক বহাল রাখা হয়েছে। শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া এই নয়া শুল্কনীতিতে পাকিস্তানের আমদানি শুল্ক ২৯ শতাংশ থেকে কমে ১৯ শতাংশে নেমেছে, অন্যদিকে ভারতকে একই হারে শুল্ক গুণতে হবে।
এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের প্রশাসন ও পাকিস্তানের মধ্যে সদ্য সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তির পর এসেছে, যেখানে পাকিস্তানের তেলসম্পদ উন্নয়নের জন্য যৌথভাবে কাজ করার ঘোষণা হয়েছে। রাশিয়া থেকে সস্তা দামে অপরিশোধিত তেল কেনার ‘শাস্তি’ হিসেবেই ভারতের উপর এই অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।
এক্সিকিউটিভ অর্ডারে বলা হয়েছে, ‘‘একাধিক দেশের সঙ্গে আলোচনা সত্ত্বেও তারা মার্কিন অর্থনৈতিক ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ হতে পারেনি।’’ নতুন নির্দেশিকায় আরও কিছু দেশের উপর শুল্ক বাড়ানো হয়েছে— সিরিয়ার উপর ৪১ শতাংশ, ব্রাজিলের উপর ৫০ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের উপর ৩৯ শতাংশ এবং তাইওয়ানের উপর ২০ শতাংশ শুল্ক ধার্য হয়েছে।
তবে এই তালিকায় ভারতই একমাত্র কৌশলগত মিত্র, যার উপর উচ্চ শুল্ক বজায় থাকছে— কোনও নতুন চুক্তি ছাড়াই।
একজন মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি বাণিজ্যচুক্তি হতে পারে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতের নাম আছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এদিকে নয়াদিল্লি কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, যা ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


