আরজি কর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসক-ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের এক বছর পূর্তিতে নতুন করে উত্তাল হতে চলেছে কলকাতা। আগামী ৯ অগস্ট, শনিবার নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছেন নির্যাতিতার মা-বাবা। এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা করেছে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীসহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। একই দিনে কালীঘাট অভিযানেরও ডাক দিয়েছে চিকিৎসকদের একাংশ।
কিন্তু তার আগেই শুক্রবার রাজ্য ও কলকাতা পুলিশ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে— নবান্ন ও আশপাশের এলাকায় কিংবা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনের কাছে জমায়েত বা মিছিল করা যাবে না। পুলিশের দাবি, নবান্ন অভিযানের জন্য কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। বিধিনিষেধ ভাঙা হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিকল্প হিসেবে বিক্ষোভের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে হাওড়ার সাঁতরাগাছি বাসস্ট্যান্ড এবং কলকাতার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ।
প্রশাসনের শঙ্কা, গত বছরের মতো এবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে। তাই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বসানো হচ্ছে স্টিলের ব্যারিকেড, কন্টেনার ও জলকামান। লালবাজার থেকে নির্দেশ এসেছে, পুলিশকর্মীদের দলবদ্ধ হয়ে বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলা করতে হবে। হাওড়া সিটি পুলিশও নবান্নের দিকে যাওয়ার সম্ভাব্য রুটে বিশেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত বছরের নবান্ন অভিযান ঘিরে ব্যারিকেড ভাঙা, ভাঙচুর, আগুন লাগানো এবং আন্দোলনকারী ও পুলিশের সংঘর্ষে বহু আহত হয়েছিলেন। কলকাতা হাই কোর্ট এবারও অভিযান আটকানোর আবেদন খারিজ করে জানিয়ে দিয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মৌলিক অধিকার। ফলে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিজেপি ও ছাত্র সংগঠনগুলি মিছিলের প্রস্তুতি জোরদার করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনটি বড় মিছিল নবান্নের দিকে রওনা দেবে— শিয়ালদহ, ডোরিনা ক্রসিং এবং সাঁতরাগাচি থেকে।


