উন্নাও কাণ্ডে নির্যাতিতার হেনস্তা, যোগী মন্ত্রীর হাসি—‘বেটি বাঁচাও’ নিয়ে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ অভিষেকের

Spread the love

উন্নাও গণধর্ষণ কাণ্ডের নির্যাতিতা ও তাঁর মায়ের সঙ্গে দিল্লিতে প্রতিবাদ চলাকালীন হেনস্তার অভিযোগ এবং সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে উত্তরপ্রদেশ সরকারের এক মন্ত্রীর প্রকাশ্য রসিকতা দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্কে আগুন ঘি ঢালল। এই ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যম এক্সে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এটাই কি ‘বেটি বাঁচাও’ প্রকল্পের বাস্তব রূপ?
অভিষেকের অভিযোগ, ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত ও বহিষ্কৃত বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তার মধ্যেই বিজেপিশাসিত উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী ওমপ্রকাশ রাজভর নির্যাতিতাকে নিয়ে প্রকাশ্যে হাসি-ঠাট্টা করছেন। অথচ এই গোটা ঘটনায় বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের নীরবতা চোখে পড়ার মতো। একজন ধর্ষক যখন জামিনে বাইরে ঘুরে বেড়ান এবং একজন মন্ত্রী নির্যাতন নিয়ে রসিকতা করেন, তখন দেশের মহিলা সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রশ্নের মুখে পড়ে বলেই মন্তব্য করেন তৃণমূল নেতা।
উন্নাও কাণ্ডের সূত্রপাত ২০১৭ সালের ৪ জুন। অভিযোগ, বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গার নির্যাতিতাকে গণধর্ষণ করেন। প্রথমে পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে বলে অভিযোগ ওঠে। ন্যায়বিচারের দাবিতে শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে চিঠি লেখেন নির্যাতিতা। ২০১৮ সালের এপ্রিলে যোগীর সরকারি বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। সেই ঘটনার পর নির্যাতিতার বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে পুলিশি হেফাজতেই তাঁর মৃত্যু হয়, যা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর কুলদীপ সিং সেঙ্গারকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারা ও পকসো আইনে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। তবে সম্প্রতি দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশে তাঁর জামিন মঞ্জুর হয়। এর পর দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে সিআরপিএফের হাতে হেনস্তার শিকার হন নির্যাতিতা ও তাঁর মা বলে অভিযোগ ওঠে। এই পরিস্থিতিতে মন্তব্য করতে গিয়ে উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী ওপি রাজভরের হাসি ও কটাক্ষের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে।
এই আবহেই বিজেপির ‘বেটি বাঁচাও’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাস্তবে যখন নির্যাতিতার সঙ্গেই বারবার অন্যায় হয়, তখন সরকারের দাবি ও স্লোগানের মধ্যে গভীর ফারাক স্পষ্ট হয়ে ওঠে।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *