যুদ্ধ যে আসন্ন—তা যেন আগেই টের পেয়েছিল ভারত। তাই প্রস্তুতি নিচ্ছিল চুপচাপ। আর সেই প্রস্তুতির সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অস্ত্র আজ ভারতীয় সেনার হাতে—‘উড়ন্ত ট্যাঙ্ক’, অ্যাপাচে হেলিকপ্টার।
১৫ মাসের দেরি, বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, আর তারপর আমেরিকার প্রযুক্তিগত অজুহাত—সব পেরিয়ে অবশেষে মঙ্গলবার হিন্ডন ঘাঁটিতে নেমে এল তিনটি মারণযন্ত্র। মার্কিন পরিবহণ বিমানের ফাঁক গলে ভারতের মাটিতে নামল ‘ট্যাঙ্ক কিলার’।
প্রতিরক্ষা মহলের মতে, “এই হেলিকপ্টারগুলি শত্রুর বুকের উপর বাজ পড়ার সমান।”
ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মত্ত পাকিস্তান আর লাল চোখ করা চিন—এই দুই শত্রুকে সামনে রেখেই ২০২০ সালে বোয়িংয়ের সঙ্গে ৬টি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার কেনার চুক্তি করেছিল ভারত। কিন্তু চুক্তির সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও মেলেনি ডেলিভারি। একের পর এক ডেট পিছিয়ে দেয় আমেরিকা। সেনাবাহিনীতে জমতে থাকে অসন্তোষ।
শেষমেশ সেই অপেক্ষার অবসান। ঝড়ের বেগে ভারতের প্রতিরক্ষা বলয়ে ঢুকে পড়ল মৃত্যু বয়ে আনা এই আকাশযান।
কেন এত ভয়ংকর অ্যাপাচে?
- একাই শত্রুপক্ষের গোটা ট্যাঙ্ক স্কোয়াডron ধ্বংস করে দিতে পারে
- ‘হেলফায়ার মিসাইল’—নামের মতোই ভয়ঙ্কর, লম্বা রেঞ্জ, নিখুঁত আঘাত
- শত্রুর ঘাঁটি কোথায়, কতটা দূরে—সব নজরে রাখে Longbow Fire Control Radar
- ৩০০ কিমি প্রতি ঘণ্টায় ছুটতে পারে, রাত হোক বা কুয়াশা—দমাতে পারে না কেউ
- ‘TADS’ ও ‘Night Vision Sensor’-এর দৌলতে অন্ধকারই যেন আলো হয়ে ওঠে
- নিয়ন্ত্রণ করতে পারে ড্রোন, পাঠাতে পারে রিয়েল টাইম ডেটা
- রয়েছে টাইটেনিয়াম বর্ম—গোলাবারুদ আটকে দেয় বুক দিয়ে
এই মুহূর্তে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে রয়েছে ২২টি অ্যাপাচে, সেনার কাছে এল আরও ৩টি। চলতি বছরের শেষের দিকে বাকি ৩টি আসলেই ২৮-এ পৌঁছবে এই মারণযন্ত্রের সংখ্যা। এই আকাশে এখন ভারতই রাজা। শত্রুর ট্যাঙ্ক? এখন থেকে শুধু নিশানা।


