বেঙ্গল প্রো টি২০ লিগে বাইরের রাজ্যের ক্রিকেটার খেলানোর বিরুদ্ধে ইডেনে সিএবি (CAB) র সামনে বাংলা পক্ষ বিক্ষোভ দেখায় শুক্রবার।
তাদের দাবি, আধার জালিয়াতি করে বাইরের রাজ্যের ক্রিকেটার খেলানো হচ্ছে। বাংলার মাটিতেই বঞ্চিত বাংলার বাঙালি তথা ভূমিপুত্র খেলোয়াড়রা। এরই প্রতিবাদে সিএবি অফিসের সামনে বিক্ষোভ করে বাংলা পক্ষ। স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়। সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায় এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন। এই বিক্ষোভে হাজির ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চ্যাটার্জী, মহঃ সাহীন এবং কলকাতার জেলার সম্পাদক সৌম্য বেরা সহ অনেক বঞ্চিত ক্রিকেটার।
দাবি ও স্মারকলিপির বয়ান নীচে দেওয়া হল।
তাঁদের চিঠির বয়ান:
চিঠির শুরুতেই আপনাদের কাছে অনুরোধ আমাদের কৌতূহলের যদি নিরসন করেন তবে খুব ভালো হয়। কারণ আমরা বুঝে উঠতে পারছি না যে সিএবি (CAB) আসলে বিহারের ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা না বাংলার ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা। বাংলার ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা হলে নিশ্চয়ই বাংলার বাঙালি তথা ভূমিপুত্র ক্রিকেটারদের কথা ভাবতো। বিহার-ইউপি- মধ্যপ্রদেশের ক্রিকেটারদের জীবনে উন্নতির যে গুরুদায়িত্ব CAB কাঁধে তুলে নিয়েছে সেজন্য সিএবি কর্তাদের অফুরন্ত শুভেচ্ছা জানাই।
বাংলার রঞ্জি টিম আসলে বাংলার না বিহারের সেটা বোঝা মুশকিল। First Division ক্রিকেটেও বাঙালি নৈব নৈব চ। সম্প্রতি Bengal Pro T20 League এ টিম দেখে মনে হচ্ছে সিএবি বাঙালি ক্রিকেটার না খেলানোর রেজোলিউশন পাশ করেছে। বাইরের ক্রিকেটারদের জন্য আধার কার্ড জালিয়াতির স্পেশাল ট্রেনিং সিএবি দিচ্ছে কিনা সে বিষয়ে সকলের মনেই প্রশ্ন আছে। মনে হয় বাংলার সঠিক আধার কার্ড থাকলে বেঙ্গল প্রো টি২০ লীগে চান্স পাওয়া যাবে না। বিভিন্ন ক্লাবে এখন ক্রিকেট খেলাটা মূল ব্যবসা না, মূল ব্যবসাই হল জালিয়াতি করে টাকার বিনিময়ে বাইরের রাজ্যের ক্রিকেটার খেলানো।
আপনারা এতটাই যোগ্য যে IPL2025 এর ফাইনাল রাজনীতি করে কলকাতা থেকে আমেদাবাদে সরানোর পর আপনাদের ভয়েস ১৫ ডেসিবেল ছাড়ায়নি, কারণ আপনারা শব্দ দূষণ নিয়ে খুব সচেতন। হয়ত আপনারা ইডেনের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এই নোংরামির প্রতিবাদ করেননি। হয়ত ফাইনাল খেলা হলে ইডেনের ঘাস গুলোর ক্ষতি হতো। তাই প্রতিবাদ না করে ঠিকই করেছেন। তারপর CAB র অন্যতম কর্তা অভিষেক ডালমিয়ার নিজের রাজ্য রাজস্থানের পাশেই গুজরাট অবস্থিত যখন তখন পড়শি রাজ্যে ফাইনাল হওয়া তো আনন্দেরই ব্যাপার।
আজ আমরা দু রকমের দাবি নিয়ে এসেছি।
১. আপনারা নিজেদের বিহারের ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা ঘোষণা করে পাটনায় অফিস খুলুন।
নয়তো,
২. বাংলার ক্রিকেটের সর্বস্তরে বাঙালি তথা ভূমিপুত্রদের অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করুন।
১ নং টা আপনারা অফিসিয়ালি নিশ্চিত করলে আমাদের দয়া করে জানাবেন। তাহলে আমরা বাবুঘাটে বাংলার ক্রিকেটের শ্রাদ্ধ-শান্তিটা করে আসবো।
কিন্তু যদি আপনাদের মতো মহানুভবরা আমাদের দয়া করে, এমনকি ভুল করেও ২ নং পয়েন্ট টা ভাবেন তাহলে আমরা কয়েকটা দাবি জানাবো। পড়ত গিয়ে রাগ হলে নাও পড়তে পারেন। তাও বলছি-
১. আধার কার্ড জালিয়াতি বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপ নিন। স্কুল সার্টিফিকেট ও রেশন কার্ড দেখে এবং SDO দের দেওয়া ডোমিসাইল সার্টিফিকেট দেখে তবেই চান্স দিন। ঠিকানা ভেরিফাই করুন পুলিস দিয়ে।
২. বাংলার রঞ্জি টিমে ১১ জন বাংলার প্রকৃত ভূমিপুত্র চাই।
৩. ফার্স্ট ডিভিশন টিম গুলোয় কমপক্ষে ৯ জন প্রকৃত ভূমিপুত্র খেলাতে হবে।
৪. বেঙ্গল প্রো টি ২০ লীগ সব দলে ১১ জন করেই প্রকৃত ভূমিপুত্র চাই।
৫. সেকেন্ড ডিভিশন ক্লাব গুলোয় প্রতিটা টিমে কমপক্ষে ১১ জন প্রকৃত ভূমিপুত্র ক্রিকেটার চাই।


