বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড়সড় মোড়। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না আওয়ামী লীগ—এমনটাই নিশ্চিত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন। দলটির ওপর জারি থাকা নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় নির্বাচনি প্রক্রিয়া থেকে কার্যত বাদ পড়ল দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলটি।
নির্বাচন কমিশনের সূত্র অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম ইতিমধ্যেই স্থগিত রয়েছে এবং দলটির নিবন্ধনও বর্তমানে কার্যকর নয়। এই অবস্থায় আইনগতভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বা দলীয় প্রতীক ব্যবহার করার সুযোগ নেই। কমিশনের স্পষ্ট বক্তব্য, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নই ওঠে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি, দলটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে চলমান বিচারপ্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট গেজেট বিজ্ঞপ্তির কারণেই এই সিদ্ধান্ত। সরকারের মতে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং বিচারাধীন অবস্থায় রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়া যাবে না।
এই ঘোষণার পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটির নেতারা একে “গণতন্ত্রবিরোধী সিদ্ধান্ত” বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং অভিযোগ করেছেন, দেশের কোটি কোটি ভোটারের মতামত উপেক্ষা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হলে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন অন্তর্বর্তী সরকার বলছে—নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হবে এবং সব প্রস্তুতি সেই অনুযায়ী এগোচ্ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি নজর কাড়ছে। বিভিন্ন দেশ ও গণতান্ত্রিক সংস্থার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা শোনা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কী হবে এবং এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের গণতন্ত্রে কী প্রভাব ফেলবে—সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।


